নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শখ করে কেনেন। তারপর শখ মিটে গেলে রাস্তায় ফেলে দেন। কেউ আবার নির্যাতনও করেন। বাড়ির পোষ্যদের সঙ্গে এরকম অমানবিক আচরণ করেন অনেকে। এ খবর মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। এবার এই ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনা আটকাতে বাড়ির পোষ্যের জন্য লাইসেন্স ব্যবস্থা শুরু করল হাওড়া পুরসভা। বিদেশি প্রজাতির কুকুর বাড়িতে রাখলে অনলাইনে লাইসেন্স করানো বাধ্যতামূলক হল হাওড়ায়।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি প্রজাতির কুকুর পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে এবার থেকে লাইসেন্স করাতেই হবে শহরের নাগরিকদের। লাইসেন্স বাবদ বছরে দিতে হবে ১৫০ টাকা। হাওড়া পুরসভার ওয়েবসাইটে আবেদন, পুনর্নবীকরণ করাতে পারবেন পোষ্য মালিক। দিতে হবে পোষ্যের টিকাকরণ সার্টিফিকেট ও মালিকের আধারের তথ্য। কুকুরের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশি পাখি বা এক্সটিক বার্ড রাখার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে পুর কর্তৃপক্ষ। তা হলে ম্যাকাও, কুকাটিয়েল, ক্যানারিসের মত বহুমূল্য পাখি অনেকে বাড়িতে রাখতে পারবেন। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পোষ্যপ্রেমীদের অনেকে এই লাইসেন্সের জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। বাড়ির সারমেয়দের নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন মালিকরা। লাইসেন্স থাকলে আইনি সহায়তা পেতে সুবিধে হবে।’
পোষ্যপ্রেমীদের বক্তব্য, গৃহস্থদের মধ্যে বিদেশি প্রজাতির সারমেয় বাড়িতে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু অনেকেই বেআইনিভাবে ক্রস ব্রিড করে অনেক টাকার ব্যবসা ফাঁদছেন। এছাড়া পোষ্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টিযুক্ত খাবার দেওয়া বা উপযুক্ত যত্ন নেওয়া হয় কি না তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জানা যায় না। অনেকে বাড়িতে বেঁধে রেখে নির্যাতনও করেন। কিংবা সমস্যা হলে রাস্তায় ছেড়ে দেন। এই ধরনের অভিযোগ কানে আসলে বহু পশুপ্রেমী পুলিসে জানান। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই তা কানে আসে না।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অনামিকা রায় মৌলিক তিন বছরের এক জার্মান শেফার্ড পালন করেন। তারপর বছর দু’য়েক আগে কারও দ্বারা পরিত্যক্ত একটি ল্যাব্রাডর উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওরা তো আমাদের সন্তানের মত। তবুও অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারগুলিতে পরিত্যক্ত সারমেযয়ের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পুরসভার এই উদ্যোগের পর আশা করছি মানুষের সচেতনতা বাড়বে।’