Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দুর্নীতি করলে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব’, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দুর্নীতি করলে জেলে ঢোকানো হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

‘দুর্নীতি করলে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব’, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, ময়নাগুড়ি: ‘খুব সাবধান! দুর্নীতি করলে খপ করে ধরব। তারপর চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব। শুধু জেলে ঢোকাব না, সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব।’ সোমবার জলপাইগুড়ি সফরে এসে ময়নাগুড়ির জল্পেশ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালখোলা কিংবা আসানসোলের রামপুরের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ডালখোলায় রসিদ ছাপিয়ে পাঁচশো টাকা করে তোলা হচ্ছিল। এর সঙ্গে কয়েকজন লোকাল পুলিশ আছে। সিভিকও কয়েকজন রয়েছে। পদক্ষেপ নিয়েছি। ঝাড়াই-বাছাই করার দরকার আছে, করবও। আসানসোলের রামপুরে গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। তারপরও ২২ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। আমরা দু’জন মোটর ভেহিকেলস অফিসারকে (অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাজিমুল হক) প্রথমে সাসপেন্ড করি। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লেখেন, সাসপেন্ড তো করলেন। ওই সাসপেন্ড আবার উঠেও যাবে। জেনে রাখুন, ওই দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে যে কোনো সরকারি কর্মীর ক্ষেত্রেই এক পরিণতি হতে পারে। অনিয়ম চলবে না। রাস্তায় হাত পাতাও বন্ধ করব। উত্তরবঙ্গে ৩০টি বড়ো প্রকল্পের কাজ চলছে। এদিন উত্তরকন্যা থেকে ১৬টি প্রকল্পের কাজ ভার্চুয়ালি খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু। ওই সব কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে কি না স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তা জানতেও চান।

Advertisement

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, তা এদিন আবারও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জল্পেশে বিজেপির এক সভায় তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা ২৪ ঘণ্টার জন্য হেল্পলাইন চালু করছি। পশু, কয়লা, কাঠ, পাথর, বালি কিংবা সুপারি পাচার হতে দেখলে ওই নম্বরে জানান। আমাদের সরকার পাচার বন্ধে বদ্ধপরিকর।’ অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান শুভেন্দু। বলেন, ‘ভূমি, পরিবহণ দপ্তর কিংবা পঞ্চায়েত, পুরসভার কর্মীরা সাবধান! টাকা নেওয়ার অভিযোগ এলে পার পাবেন না।’ এরপরই রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা— ‘আপনারা বেতন পাচ্ছেন। বৈধভাবে আপনাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ভদ্রভাবে থাকুন। যেটুকু পেটে ধরে, সেটুকুই খান। তার চেয়ে বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। বদহজম হবে।’
ককরোচ বিক্ষোভ ইস্যুতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। কলকাতায় চলছে বিজেপির পালটা মিছিলের পালা। এরই মধ্যে শুভেন্দুবাবু এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনো টুকরে গ্যাংকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। টুকরে গ্যাং মাথা তোলার চেষ্টা করলে রুখে দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্রবাদীদের। এজন্য রাষ্ট্রবাদীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পূর্বসূরির বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানাতে ভোলেননি। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর বাংলায় যিনি সরকার চালিয়েছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিলেন। বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য এতদিন জমি দেওয়া হয়নি। উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে জামাত ঢুকে পড়েছে। অনেক জায়গাতেই বদলে গিয়েছে জনবিন্যাস। আমরা বর্ডারে কাঁটাতারের জন্য বিএসএফকে জমি দিয়েছি। আর ঢুকতে পারবে না।’  
মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচার হলে বর্তমান সরকার যে কী করতে পারে, বারুইপুর তার উদাহরণ বলে এদিন উল্লেখ করেন শুভেন্দু। বলেন, ‘মহিলাদের দিকে খারাপ নজরে তাকালে পরিণাম মারাত্মক হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ