রাজদীপ গোস্বামী, সবং: কোনও পঞ্চায়েত উন্নয়নের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকলে আমাদের কাছে নাম দিন। মানুষের সমস্যার সমাধান করাই আমাদের লক্ষ্য। সোমবার সবং ব্লকের দেভোগ গ্রাম পঞ্চায়েতে আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। এদিন বেনেদিঘি জনকল্যাণ হাইস্কুলে এই কর্মসূচিতে মানসবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক গীতারানি ভূঁইয়া, খড়গপুর মহকুমা শাসক পাতিল যোগেশ অশোকরাও সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এদিন বহু গ্রামবাসী এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিকাশি ব্যবস্থা ছাড়াও বেশকিছু প্রাইমারি স্কুল ও আইসিডিএস কেন্দ্র সংস্কারের দাবি জানান।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। সকলের সমস্যার কথা লিখে রাখা হয়েছে। ধাপে ধাপে সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রতিটি শিবিরে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এদিন মানসবাবু সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা বুড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মসূচিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
মন্ত্রী বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, কেন্দ্রের বঞ্চনার জেরে প্রতি মুহূর্তে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। লক্ষ, কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। তাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে চাইছেন। আমাদের কারও ভুল হলে ধরিয়ে দিন। কিন্তু, রাগ করে বসে থাকবেন না। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন, আগে এলাকার ছোট সমস্যার কথা বলার সুযোগ পেত না সাধারণ মানুষ। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে মানুষ উপস্থিত থেকে সমস্যার কথা বলেছে। ধীরে ধীরে প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবেই। একইসঙ্গে দুয়ারে সরকার শিবিরের মাধ্যমেও বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আর্থিক বছরে দেভোগ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়েছে। এছাড়া একাধিক ড্রেন, নিকাশি নালা, পানীয় জলের প্রকল্পের কাজ করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত।
এদিন দুয়ারে সরকার শিবিরও হয়েছে। সেই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন মাইতি। তিনি বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনেক কাজ হয়েছে। তবে বেশকিছু এলাকায় সোলার লাইট লাগালে ভালো হয়। এই শিবিরে গেলে দ্রুত পরিষেবা মিলছে।
দেভোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা মাইতি বলেন, মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই উদ্দেশ্য। আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। একজন মানুষও যাতে সমস্যায় না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।