নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএমশ্রী প্রকল্পের মউ স্বাক্ষর না করলে এরাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের টাকা পাবে না। মঙ্গলবার নিউটাউনে আইআইটি খড়্গপুরের রিসার্চ ক্যাম্পাসের এক অনুষ্ঠানে এসে ফের একথা জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে মডেল স্কুল গড়ে তুলবে। তবে, সেই প্রকল্পে রাজি নয় রাজ্য সরকার। তার ফলে রাজ্যের বুনিয়াদি শিক্ষার আর্থিক সরবরাহই কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এ নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের যুক্তি, এটা একটা প্যাকেজ। ‘হাত নেব, মাথাটা নেব না, তা হয় না।’ তিনি জানান, একই সমস্যা হয়ে রয়েছে পিএম ঊষা (আগে যা ছিল রুশা) প্রকল্প নিয়ে। উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংস্করণে রাজ্য সরকার অংশীদারিত্বের আবেদন করেনি।
রাজ্যের মূল আপত্তির জায়গা প্রকল্পটির নাম। রাজ্য সরকারের অর্থ সাহায্যও যেখানে থাকবে, সেই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত হবে কেন, এই প্রশ্ন তুলেই আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও একাধিকবার বলেছেন, সমগ্র শিক্ষা মিশনের (আগে যা ছিল সর্বশিক্ষা মিশন) মতো দীর্ঘদিন ধরে চালু প্রকল্পের সঙ্গে পিএমশ্রীর মতো নয়া প্রকল্পকে আবশ্যিক শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া অনৈতিক ব্যাপার। এ নিয়ে রাজ্য সরকার একাধিকবার দিল্লিতে দরবার করলেও লাভ হয়নি। মঙ্গলবারও ব্রাত্যবাবু এক্স হ্যান্ডলে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘আপত্তিটা নীতিগত। এই প্রকল্পগুলির অর্থের একাংশ কেন্দ্রীয় সরকার দেয়। বাকিটা দেয় রাজ্য সরকার। রাজস্বের ক্ষেত্রেও সেটা খাটে। সারা দেশ থেকেই তা সংগৃহীত হয়। সেক্ষেত্রে কেন প্রধানমন্ত্রীর নামেই প্রকল্পগুলি নামাঙ্কিত হবে, রাজ্যের নাম কেন থাকবে না, এটাই আমাদের প্রশ্ন। এর সদুত্তর কেন্দ্রীয় সরকার এখনো দিতে পারেনি। সংবিধান স্বীকৃত ফেডারালিজম বারবার ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।’
নাম বিতর্ক প্রসঙ্গে সুকান্তবাবুর দাবি, বাংলায় রাজনীতি বেশি হয়। তাই এই অবস্থা। পিএম কোনো ব্যক্তি নন, একটি পদ। ভবিষ্যতে যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তাই এ নিয়ে আপত্তি থাকা উচিত নয়। যদিও, শিক্ষাক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরাও একমত, অন্য একটি প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার শর্তে সমগ্র শিক্ষা মিশনের মতো জরুরি একটি প্রকল্পের অর্থ আটকে রাখা যায় না। এদিন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বুনিয়াদি স্তর পর্যন্ত কর্মরত শিক্ষকদের আবশ্যিক টেট উত্তীর্ণ হওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে কোনো দিশা দেখাতে পারেননি। এই প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ হওয়ায় সরকার একতরফা কোনো পদক্ষেপ করতে পারে না। অর্ডিন্যান্স জারি করে কি বিষয়টির সমাধান সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সব বিষয়েই আইনি পরামর্শ গ্রহণ চলছে।