Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিরামকে জেতালে বলরামপুরের সবার মাথার ছাদ নিশ্চিত: অভিষেক

একুশের নির্বাচনে বলরামপুর কেন্দ্রে সামান্য ভোটের কারণে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাত। তবে থেমে থাকেনি উন্নয়ন।

শান্তিরামকে জেতালে বলরামপুরের সবার মাথার ছাদ নিশ্চিত: অভিষেক
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত মাহাত, বলরামপুর: একুশের নির্বাচনে বলরামপুর কেন্দ্রে সামান্য ভোটের কারণে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাত। তবে থেমে থাকেনি উন্নয়ন। সোমবার বলরামপুরের কলেজ ময়দানে সভা থেকে সেই উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন, ‘এবার শান্তিরাম মাহাতকে জেতালে বলরামপুরের সবার মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করা হবে। লাক্ষা শিল্পেরও উন্নতি হবে, তা কথা দিয়ে রাখছি।’ অভিষেকের এই ঘোষণা মাত্র ভিড়ে ঠাসা সভায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

Advertisement

এদিন বলরামপুরের নির্বাচনি জনসভা থেকে বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থীকে তুলোধনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী নাকি পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর আপ্তসহায়ক! দিল্লির তল্পিবাহক জ্যোর্তিময় সিং মাহাত। দিল্লির ক্রীতদাসের আপ্তসহায়কের অধীনে বলরামপুরের বাসিন্দাদের থাকতে হবে। এই অপমানকে কি বলরামপুরের বাসিন্দারা মেনে নেবেন? একদিকে আপ্তসহায়কে মাথার উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সতীর্থ শান্তিরাম মাহাতকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যিনি সারাজীবন রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেননি। বিজেপি বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী করলে ৫০ হাজার ভোটে হারতেন। তবে এবার অন্য প্রার্থী দেওয়ায় তৃণমূল অন্তত পাঁচ হাজার হলেও বেশি ভোট পাবে। ’ এনিয়ে জানতে বিজেপি প্রার্থীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 
এদিনের সভা থেকে অতীতের ভয়াবহ দিনের কথাও মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের সেনাপতি। তিনি বলেন, বলরামপুরে আগে থানার গেটে রাত হ঩লেই তালা লেগে যেত। এখন সারারাত থানা খোলা থাকে। বলরামপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূলে শান্তি এবং রাম দুইই আছে। 
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, আগে বলরামপুরে দমকল কেন্দ্র ছিল না। পুরুলিয়া থেকে দমকল ডাকতে হত। এখন বলরামপুরেই দমকল কেন্দ্র হয়েছে। একাধিক সরকারি অফিস আগে ভাড়া বাড়িতে চলত। এখন নিজস্ব ভবন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে। 
বিজেপি যে দলের কর্মীদেরও গুরুত্ব দেয় না। স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝা না, তাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বিজেপির যে দু’জন কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল, তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে তাঁদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত আট বছরেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। এমনকি, ওই পরিবারের কেউ ফোন করলে, সেই ফোনও পুরুলিয়ার এমপি ধরতে পারেন না! পুরুলিয়া জেলায় ট্রেনগুলি সঠিক সময়ে চলাচল নিশ্চিত করতে পারেন না পুরুলিয়ার বিজেপি এমপি। বিজেপি তো ১৬টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। সৎ সাহস থাকলে ওই ১৬টির মধ্যে যে কোনো একটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মতো মহিলাদের সুবিধা দিয়ে দেখাক। 
অভিষেক আরও বলেন, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য প্রায় দু’মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই করেনি। বিজেপির শুধু কাজ হল কুড়মি ও আদিবাসীদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেওয়া। উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আলোচনা হলে বিরোধীদের লেজেগোবরে করে মাঠের বাইরে পাঠাবে তৃণমূল। কুর্মিদের আবেগ নিয়ে খেলে যে নিজের ছেলেকে বিজেপির প্রার্থী করেছে, সেবিষয়ে কেউ তাঁদের ক্ষমা করবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ