Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্ত্রী, বিধায়করা পেলে আমরা নয় কেন, চারমাস সাম্মানিক ভাতা বন্ধ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের, ক্ষোভ

রাজ্যে ক্ষমতায় এসে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার যাবতীয় ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছে বিজেপি

মন্ত্রী, বিধায়করা পেলে আমরা নয় কেন, চারমাস সাম্মানিক ভাতা বন্ধ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের, ক্ষোভ
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম:  রাজ্যে ক্ষমতায় এসে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার যাবতীয় ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার  পক্ষে সওয়াল করছে বিজেপি। তার মধ্যেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রায় ৭৩ হাজার জনপ্রতিনিধি চার মাস ধরে সাম্মানিক ভাতা পাচ্ছেন না! সরকারের বয়স তিন মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না নবান্ন। ফলে প্রবল অর্থ সংকটে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। বিশেষ করে আদিবাসী, জনজাতি অধ্যুষিত ঝাড়গ্রাম জেলার জনপ্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ক্ষোভ বাড়ছে সবার মধ্যেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—মন্ত্রী, বিধায়করা নিয়মিত ভাতা পেলে আমরা বঞ্চিত কেন?’   

Advertisement

রাজ্যে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন একদফায় ৮ জুলাই হয়েছিল। গ্ৰাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদস্তরে সব দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সব জেলায় ভালো ফল করেছিল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে ৩ হাজার ৩১৭ টি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে ৬৩ হাজার ২২৯ জন সদস্য রয়েছেন। ৩৪১টি পঞ্চায়েত সমিতিতে ৯ হাজার ৭৩০ জন সদস্য রয়েছেন। ২২টি জেলা পরিষদে প্রায় ৯২৮ জন সদস্য রয়েছেন। ঝাড়গ্রামে জেলা পরিষদ ও  ৮টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ৭৯টি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সিংহ ভাগ তৃণমূলের দখলে রয়েছে। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিদের আর্থিক অবস্থা বিচার করে ২০১৮ সালে সাম্মানিক বাড়িয়েছিল মমতার সরকার। তারপরেও অল্প পরিমাণ সাম্মানিক বেড়েছিল। বর্তমানে জেলা পরিষদের  সভাধিপতি প্রতি মাসে  ৯ হাজরা টাকা, সহকারী সভাধিপতি ৮ হাজার, কর্মাধ্যক্ষরা ৭ হাজার টাকা ও সদস্যরা ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পান। একজন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ৬ হাজার টাকা, কর্মাধ্যক্ষরা ৪ হাজার করে টাকা পান। গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান পান ৫ হাজার টাকা ও অন্যান্য সদস্যরা ৩ হাজার ৯০০ টাকা পান। যাতায়াতের খরচের টাকা জেলা ভিত্তিক আলাদা। জেলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের সংসার চলে ভাতার টাকায়। চার মাস ধরে ভাতা বন্ধ হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। মিলছে না যাতায়াতের খরচও। তাতে সমস্যা আরও বেড়েছে।
 শাসক দলের রাজ্য নেতৃত্ব জনপ্রতিনিধিদের পঞ্চায়েতে না আসার লাগাতার অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছিলেন না। ক’দিন আগে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন সাহু চার মাস ধরে ভাতা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করতেই শোরগোল পড়ে যায়। পঞ্চায়েত সমিতি থেকে পঞ্চায়েতের সদস্যরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও অসহায় অবস্থার কথা অনেকেই ব্যক্তিগত স্তরে বলতে শুরু করেছেন। সুমন এদিন বলেন,  ‘চার মাস হতে চলল, আমরা সাম্মানিক থেকে বঞ্চিত। অথচ, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিধয়ায়করা দিব্যি ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। এই দ্বিচারিতা ঠিক নয়। কারণ, আমরা সকলেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি।’ 
জামবনী পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা পঞ্চায়েতে যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। প্রকশ্যে মুখ খুললে আক্রমণ নেমে আসবে। সেই ভয়ে চারমাস ধরে চুপ করে আছি।’ বিনপুর-১ ব্লকের পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘ভাতার টাকায় আমাদের সংসার চলে। চারমাস ধরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমাদের সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। পঞ্চায়েতে গেলেও হেনস্তা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছে। তাঁরা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ