শিক্ষক দিবসে নিজের শিক্ষক জীবনের গল্প শোনালেন সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।
• একটি ছোট চারাগাছকে মহীরুহে পরিণত করেন একজন শিক্ষক। আমাদের জীবনে চলার পথে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। শিক্ষকরাই মানুষ তৈরির কারিগর। জীবনের প্রথম শিক্ষক আমার মা-বাবা। আমার সঙ্গীত জীবনের হাতেখড়িও তাঁদের কাছেই। এখন সময় বদলেছে। আমারও এখন প্রচুর ছাত্রছাত্রী। ওদের সঙ্গে আমার বন্ধুর মতো সম্পর্ক। শিক্ষক হিসেবে আমি একদমই কড়া নই। শিক্ষক দিবসে আমার গুরুদের আশীর্বাদ নিয়ে দিন শুরু হয়। তারপর আমার কচিকাঁচাদের সঙ্গে সময় কাটে। কিন্তু, আমি যখন ছাত্রী ছিলাম তখন শিক্ষক দিবসের আলাদা উত্তেজনা ছিল। আমার স্কুলের শিক্ষিকারা মাতৃসমা ছিলেন। তাঁদের স্নেহের পরশে জীবনের মূল্যবোধ শিখেছি প্রতিনিয়ত। প্রয়োজনে তাঁরা শাসনও করেছেন। তখন টিচার্স ডে-তে নিজেদের স্বল্প সঞ্চয়ে শিক্ষিকাদের জন্য উপহার কিনতাম। ক্লাসরুম সাজানো হত। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে এখন শিক্ষক দিবস পালনের রীতিও পরিবর্তন হয়েছে। এখন শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সময় শিক্ষকদের কথাই বেদবাক্য ছিল। কিন্তু, এখন শিক্ষকরাও অনেক বেশি জবাবদিহির সম্মুখীন হন। যেটা আমাদের সময় ছিল না। আমার হাতে যদি সুযোগ থাকত তাহলে আমি ছোট বাচ্চাদের ব্যাগের ভার কমিয়ে দিতাম। এখন তো বাচ্চাদের ভীষণ পড়ার চাপ। পরীক্ষার চাপ, প্রজেক্টের চাপ। তাদের অত্যধিক পড়ার চাপ লাঘব করার চেষ্টা করতাম। কচিকাঁচারা যাতে আনন্দ করে শিখতে পারে সেই ব্যবস্থা করতাম। একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের বলব নিজের সংস্কৃতিকে, নিজের শিকড়কে উপেক্ষা করো না। শেখার কোনও বিকল্প নেই। অধ্যাবসায়ের ক্ষেত্রে সততা, নিয়মানুবর্তিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সততার সঙ্গে শিখলে সাফল্য আসবেই।
অনুলিখন: পূর্বাশা দাস



