দেবব্রত সরকার: ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা মেরেকেটে সাড়ে ৫ লক্ষ! বিশ্বকাপের আগে হয়তো নামও শোনেননি অনেকেই। অথচ প্রথম ম্যাচে ভোজিনহারাই আটকে দিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। এসব দেখে আপশোস কুরে কুরে খায়। সেরা মঞ্চে ওরা মাতাচ্ছে। আমরা নয় কেন? ব্যক্তিগত মত, বিশ্বকাপ খেলা দূরের কথা। এশিয়ান স্তরে সাফল্য পাওয়ার ভাবনাই আমাদের নেই। ফেডারেশন-ক্লাব, এমনকি আমরাও এই দায় এড়াতে পারি না। গোটা ভারতে ফুটবলের কোনো সিস্টেম নেই। রোডম্যাপ না পেয়ে কর্পোরেট কোম্পানি মুখ ফেরাচ্ছে। শুধু আবেগ বেচে ফুটবল হয় না। প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, অর্থ এবং অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা। বাংলা, কেরল, নর্থইস্ট, পাঞ্জাব এবং গোয়ায় একাধিক অ্যাকাডেমি প্রয়োজন। ফেডারেশন কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই নিরিখে বলতে পারি, প্রতিভার অভাব নেই। তাদের পরিশীলিত করা দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে ফুটবলকে জীবিকা হিসাবে গ্রহণ করতে পারে, সেই স্বপ্ন তো আমাদেরই দেখানো উচিত। এখানেই প্রয়োজন শিক্ষার। দরিদ্র পরিবারগুলিতে আগলে রাখতে হবে ফুটবলারের উন্নতির স্বার্থেই। এগুলো শুধু বললেই হয় না। বড়ো ক্লাবগুলি, ফেডারেশন ও সরকার— কেউ দায় এড়াতে পারে না। ভারতীয় ফুটবলে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির অবদান অনস্বীকার্য। লাভের কথা না ভেবে দীর্ঘদিন ফুটবলে টাকা ঢেলেছে তারা। কিন্তু তারপর গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টের কথা কেউই ভাবেননি। ফিফার সহায়তায় ওড়িশায় ফেডারেশনের অ্যাকাডেমি উদ্বোধন করে গেলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। একের বদলে বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১০টা অ্যাকাডেমি প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এতদিন ক্লাব চালিয়ে ইস্ট বেঙ্গলের অ্যাকাডেমি নেই কেন? ফুটবল দল চালানোর পাশাপাশি পুরোদমে অ্যাকাডেমি চালানোর বিপুল খরচ সামলানো প্রায় অসম্ভব। (শীর্ষ কর্তা, ইস্ট বেঙ্গল)