Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করলে বিক্রি করা যাবে না কাঁচা পাতা

চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করলে বিক্রি করা যাবে না কাঁচা পাতা
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বারবার সতর্ক করার পরও চোরাগোপ্তাভাবে কোনও কোনও চা বাগান এখনও নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে এবার কড়া নজরদারি চালাতে রাজ্যের চা উৎপাদক জেলাগুলিতে তৈরি হয়েছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। সোমবার জলপাইগুড়িতে ওই টাস্ক ফোর্সের প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনওভাবেই নিষিদ্ধ কীটনাশক চা বাগানে ব্যবহার করা যাবে না। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ নয়, এমন কীটনাশকও মাত্রাছাড়া প্রয়োগ করা যাবে না চা বাগানে। কোনও ক্ষেত্রে যদি নিষিদ্ধ কীটনাশক বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ মেলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাগানের কাঁচা পাতা বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিংবা বাতিল করা হবে চায়ের কনসাইনমেন্ট। 

Advertisement

ক্ষুদ্র বাগানগুলিতে যাতে চা উৎপাদকরা পোকা মারতে গিয়ে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার না করেন, সেব্যাপারে জেলা প্রশাসনের তরফে প্রচার চালানো হবে। জেলাশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এদিনের বৈঠকে বড় ও ক্ষুদ্র চা বাগান মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ছিলেন কৃষি, স্বাস্থ্য, খাদ্যসুরক্ষা, শ্রমদপ্তরের পাশাপাশি পুলিস আধিকারিকরা। 
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, নিরাপদ চা উৎপাদন আমাদের মূল লক্ষ্য। সেকারণে কোনও চা বাগানে যাতে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার না করা হয়, সেব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রতিটি বাগান এটা মেনে চলছে কি না, তা দেখতে নিয়মিত নজরদারি চালাবে টাস্কফোর্স। আমরা এনিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার করব। তারপরও যদি কেউ বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্তমানে চা বাগানের জন্য ২০টি কীটনাশককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ছ’টি কীটনাশক ব্যবহারে চায়ে কতটা প্রভাব পড়ছে, তা কড়া নজরে রাখা হয়েছে। চা বাগানে ব্যবহারের জন্য ৫৬টি কীটনাশক ছাড়পত্র পেয়েছে। অভিযোগ, বড় বাগানগুলি কীটনাশক ব্যবহারে অনেকটাই সজাগ হলেও অনেক ক্ষুদ্র চা বাগানে এখনও দেদার কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এরই জেরে চায়ে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় ২০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চা বাগানে কীটনাশক ব্যবহারে লাগাম টানাই এখন টাস্কফোর্সের অন্যতম লক্ষ্য। 
এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার বন্ধে আমরা প্রচার শুরু করেছি। তবে এটাও ঠিক, আবহাওয়ার পরিবর্তনে যেভাবে বাগানে লুপার, ক্যাটার পিলার ও গ্রিন ফ্লাইয়ের উপদ্রব বাড়ছে, তাতে অনুমোদিত ৫৬টি কীটনাশক দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না। কিন্তু আমরা বারবার বলছি, বাগানে যতই পোকার আক্রমণ হোক না কেন, দেদার কীটনাশক ব্যবহার করা চলবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ