নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে কিছু অদৃশ্য শর্তাবলী প্রযোজ্য হচ্ছে। তবে সে নিয়ে কোনো ঘোষণা না হওয়ায় ধন্দ তৈরি হয়েছে শিক্ষক মহলে। দেখা যাচ্ছে, কোনো একটি স্কুলে শূন্যপদ রয়েছে। তবে তা উৎসশ্রী পোর্টালে দেখা যাচ্ছে না। আবেদনকারী শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল, উভয়ই কারণ নিয়ে অন্ধকারে। তবে বিকাশ ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে।
স্কুলগুলির ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালের মাধ্যমে দপ্তরের হাতে রয়েছে। যে স্কুলে ছাত্রের অনুপাতে শিক্ষক কম, সেই স্কুলের শিক্ষক তার চেয়ে ভালো অবস্থার স্কুলে আবেদনই করতে পারবেন না—এমন ব্যবস্থাই করা হয়েছে পোর্টালে। অর্থাৎ, যে স্কুলে আগে থেকেই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ভালো, সেখানে কম শিক্ষক থাকা স্কুল থেকে কেউ আসতে পারবেন না। ওই স্কুলে শূন্যপদ থাকলেও আবেদনকারীকে তা দেখাবে না। বরং আবেদনকারী যে স্কুলে রয়েছেন, সেটির চেয়ে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে খারাপ, এমন স্কুলই তাঁকে বিকল্প হিসাবে দেখানো হবে।
এতদিন ডিআইরা শূন্যপদের হিসাব স্কুলের থেকে নিয়ে দপ্তরে দিতেন। তা স্কুলশিক্ষা দপ্তর থেকে যেত স্কুল সার্ভিস কমিশনে। তবে বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষক অবসর নিলে বা অন্য কোনো কারণে চলে গেলে তা পোর্টালের মাধ্যমে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়। শিক্ষকরা ব্যক্তিগত স্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারছেন যে কোনো স্কুলে শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পোর্টালে তা দেখতে না পেয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। এবার তার কারণ জানা যাচ্ছে।
বিকাশ ভবনের এক আধিকারিক বলেন, ‘শিক্ষকের অভাবে ধুঁকতে থাকা স্কুল থেকে যদি আরও শিক্ষক চলে যান, তাহলে তো পঠনপাঠনের ক্ষতি। তাই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘এই নীতি নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। তবে স্বচ্ছতা রাখতে এবং বিভ্রান্তি এড়াতে এটা নিয়ে আগেই ঘোষণা করা উচিত ছিল।’