শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মধ্যমগ্রাম বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এসেছিল হরিয়ানা থেকেই। ইউটিউবে ভিডিও দেখেই তা বানিয়েছিল বিস্ফোরণে মৃত সচ্চিদানন্দ মিশ্র। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। আইটিআই-ফিটার উত্তীর্ণ উত্তর প্রদেশের এই যুবক অনায়াসে সেটি তৈরি করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারনা, মধ্যমগ্রামে নিয়ে এসে ‘অ্যাসেম্বল’ করার সময় অসাবধানতা বা ভুলের কারণে আইইডিটি ফেটে যায়। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের পাত্রের নমুনা পেয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। যেখান থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছে এটি কম ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি ছিল।
মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাস্থল থেকে মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক ব্যক্তিকে। মৃত্যুর আগে পুলিসকে জানায়, তার নাম সচ্চিদানন্দ মিশ্র। উত্তরপ্রদেশের বাস্তি জেলায় বাড়ি। মোবাইলের সূত্র ধরে বাবার সঙ্গে কথা বলে পুলিস ওই যুবকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখার পর তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এটি কম ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি। বিকেলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে ব্যাটারি. তার, স্টিলের ডিভাইস উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা তদন্তকারীদের জানিয়ে যান, এটি আইইডি বিস্ফোরণ। তাঁরা সন্দেহ করছেন, অল্প মাত্রায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার হয়েছে। তার কিছু প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু কোথা থেকে এল এই আইইডি এবং কে সেটা তৈরি করল? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জেনেছেন, হরিয়ানায় যে কারখানায় সচ্চিদানন্দ কাজ করত, সেখানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হোত। তাই বিস্ফোরক জোগাড় করা তার পক্ষে সহজসাধ্য হয়। তদন্তে উঠে আসছে, আইইডি তৈরি সংক্রান্ত নানা ভিডিও সম্প্রতি ইউটিউবে সার্চ করেছিল সচ্চিদানন্দ। তার মোবাইলটি হাতে আসার পর ইউটিউবে ঘেঁটেছেন তদন্তকারীরা। মাস খানেকের মধ্যে কী কী বিষয় সবচেয়ে বেশি সার্চ করেছে সে, তা খুঁজতে গিয়ে তাঁরা এই তথ্য পান। ইউটিউব দেখে সে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও কম শক্তিশালী দুই ধরনের বিস্ফোরক তৈরি শিখেছিল। যেহেতু একজনকে মারাই তাঁর উদ্দেশ্যে ছিল, তাই কম ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি তৈরি করে। এরজন্য বিস্ফোরক ওই কারখানা থেকে পেয়েছিল। স্টিলের সামগ্রী মেলায় তদন্তকারীদের অনুমান, ফিটারের কাজ জানায় সে বিস্ফোরক রাখার জন্য কোনও পাত্র ব্যবহার করেছিল। তার মধ্যে অল্প বিস্ফোরক ভরে মধ্যমগ্রামে নিয়ে আসে। সঙ্গে ব্যাটারি, তার সহ অন্য উপকরণ নিয়ে এসেছিল। এখানে বসে সমস্ত কিছু অ্যাসেম্বল করছিল। তদন্তকারীরা ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, সমস্ত কিছু রেডি করে ব্যাটারির তার দিয়ে সংযোগ করার সময় কিছু ভুল করে ফেলে ওই যুবক। বিস্ফোরণ ঘটে যায়।