নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম এখন চর্চায়। ওই ইউনিয়ন রুমে বসেই ছাত্রীকে দিয়ে মাথা ম্যাসাজ করাতে বাধ্য করতেন টিএমসিপি’র কো-অর্ডিনেটর প্রতীক দে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কলেজ নিয়ে বদনাম রটতেই কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কলেজের পরিচালন সমিতির পরবর্তী বৈঠকে এই ইস্যু নিশ্চিতভাবেই চর্চার বিষয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে কলেজ গেটে বিক্ষোভ দেখালেন গুটিকয়েক এসএফআই সমর্থক। পরে তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার কলেজে ঢুকতে গেলে পড়ুয়াদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা রক্ষীরা এখন থেকেই পরিচয়পত্র যাচাই করে পড়ুয়াদের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেন। যাঁরা এখনও আই কার্ড পাননি, তাঁদের দ্রুত তা বানানোর জন্য কয়েকদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এদিন কলেজের খাতা দেখে তাঁদের ভিতরে ঢোকার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রতীক এই কোনওকালেই এই কলেজের ছাত্র ছিলেন না। তাহলে প্রাক্তনী না হয়েও কীভাবে প্রতিদিন কলেজে প্রবেশ করতেন এই ছাত্রনেতা, তা তাঁর কাছে জানতে চাইবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কিংশুক চৌধুরী বলেন, অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত করা হবে। পরিচালন সমিতির পরবর্তী বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনওভাবেই আপস করব না। বহিরাগত কেউ যাতে ঢুকতে না পারে, তার জন্যই পরিচয়পত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন কলেজের গেটে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। কলেজের একাংশের দাবি, সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।