Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইছাপুরে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য ও চুরি বাড়ছে, দাবি পুলিস ক্যাম্পের

ইছাপুরে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য ও চুরি বাড়ছে, দাবি পুলিস ক্যাম্পের
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ফরিদপুর থানার ইচ্ছাপুর গ্রামে চুরি, অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। আতঙ্কিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকায় সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। মদ-গাঁজার আসর বসছে। মন্দির থেকে চুরি হচ্ছে। এমনকী পড়ুয়াদের শ্লীলতাহানীও ঘটেছে। তাঁদের দাবি, এলাকায় ফের পুলিস ক্যাম্প করতে হবে। পুলিসের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের ইচ্ছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দুর্গাপুর শহর লাগোয়া। শহর লাগোয়া ওই এলাকার কৃষিজমিতে শুরু হয়েছে প্রোমোটারি। ফলে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত ও বসবাস শুরু হয়েছে। একসময়ে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে গ্রামে পুলিস ক্যম্প বসেছিল। ফলে দৌরাত্ম্য কমেও গিয়েছিল। কয়েক বছর আগে সেই ক্যাম্প উঠে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিস ক্যাম্প না থাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য ফের বেড়েছে। 
গত বছর জানুয়ারি মাসে ইচ্ছাপুর গ্রামের রাস্তায় দু’জন দুষ্কৃতী স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে লুটপাট করে। উখড়া বাজারে সোনার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী দয়াময় দত্ত। তাঁর থেকে সোনার গয়না ও ল্যাপটপ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রায় তিন বছর আগে পাঠশাওড়া গ্রামে সন্ধ্যাবেলায় টিউশন শেষে সাইকেল চালিয়ে কয়েকজন কিশোরী বাড়ি ফিরছিল। সেই সময়ে ওই কিশোরীদের শ্লীলতাহানি করে দুষ্কৃতীর দল।
এছাড়াও আগস্ট মাসে ইচ্ছাপুর এলাকায় একটি আবাসন থেকে জামতাড়া গ্যাংয়ের তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে ঝাড়গ্রাম সাইবার ক্রাইম পুলিস। ওই দুষ্কৃতীরা এখানে বসে ঝাড়গ্রামে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা করছিল। স্বামী বিবেকান্দ ক্রীড়াঙ্গন মদ-গাঁজার ঠেকে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বোমাবাজি ও মারপিটের ঘটনাও কয়েকবার ঘটেছে। পুলিস আধিকারিক সহ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে এলাকায়। এছাড়াও প্রায়ই চুরি হচ্ছে। একমাস আগেই বহু পুরনো ভীমেশ্বর মন্দিরের পিতলের ঘণ্টা চুরি যায়। এক সপ্তাহ আগেই এলাকার পুরনো গঙ্গা মন্দিরের তালা ভেঙে প্রণামীর বাক্স ও পিতলের বাসনপত্র চুরি যায়। তারপরই গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকায় ফের পুলিস ক্যাম্পের দাবি তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন গড়াই বলেন, পাঠশাওড়া গ্রামে পুলিস ক্যাম্প ছিল। সেটি উঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই ফের শুরু হয় সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য। আমাদের দাবি, সমাজকে কলুষতা মুক্ত রাখতে ফের পুলিস ক্যাম্প বসানো হোক। ইচ্ছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য উত্তম দাস বলেন, এই ভাবে চুরি বা দুষ্কৃতী কার্যকলাপ আগে হতো না। পুলিস ক্যাম্প উঠে যাওয়ায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। আমরা পুলিস ক্যাম্পের দাবি করেছি। পঞ্চায়েত প্রধান শিপ্রা মজুমদার বলেন, পুলিসি তৎপরতা ও ক্যাম্পের দাবি রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। আসানসোল -দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, আমাদের কাছে আবেদন করলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ