Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইছামতীর চর দখল! চলতি সপ্তাহেই যৌথ পরিদর্শন

টাকিতে ইছামতী ‘দখল’ করে গড়ে উঠেছে একাধিক হোটেল ও রিসর্ট

ইছামতীর চর দখল! চলতি সপ্তাহেই যৌথ পরিদর্শন
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টাকিতে ইছামতী ‘দখল’ করে গড়ে উঠেছে একাধিক হোটেল ও রিসর্ট। জনস্বার্থে এনিয়ে পুলিস ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানান এক আইনজীবী। এই অবস্থায় অবশেষে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হল দপ্তর। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই টাকি পুরসভাকে সঙ্গে নিয়ে গোটা বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করবে সেচ ও ভূমিদপ্তর। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল একাধিক হোটেল। তদন্তে যদি নির্মাণগুলি বেআইনি বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কি সেগুলি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হবে? নাকি সবটাই আসলে ‘আই ওয়াশ’! দু’দিন হইচইয়ের পর আবার সব আগের মতো চলতে থাকবে! আপাতত এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে টাকি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। 

Advertisement

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র হল উত্তর ২৪ পরগনার টাকি। ইছামতী নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। নদীবক্ষে নৌকায় বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার গা ঘেঁষে যাওয়া যায় ইছামতী, কালিন্দী ও বিদ্যাধরীর মোহনায়। সেই টাকিতেই একাধিক হোটেল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, অবৈধভাবে ইছামতীর চর দখল করে গজিয়ে উঠছে বিলাসবহুল হোটেল, রিসর্ট। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী আইনজীবী নিজেও টাকিতে বেড়াতেই এসেছিলেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার অভাব সহ নদীর চর ‘দখল’-এর ছবি তাঁর নজরে আসে। তারপরই তিনি এনিয়ে পরিবেশ দপ্তর, সেচদপ্তর, টাকি পুরসভা, বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ করেন। বিষয়টি বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার এবং হাসনাবাদ থানার নজরেও আনেন তিনি। তবে একাধিক হোটেল মালিকের দাবি, তাঁরা এলাকার এক সময়ের জমিদারের কাছ থেকে জমি কিনে সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনেই হোটেল বানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। বসিরহাটের মহকুমাশাসক আশিস কুমার বলেন, ‘পুরসভা, সেচ ও ভূমিদপ্তর যৌথ তদন্ত করবে। রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই আমরা তদন্ত করব। বাকিটা দপ্তরের সিদ্ধান্ত।’ বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, ‘এখন যিনি পুরসভার চেয়ারম্যান, তাঁর আমলেই তৈরি হয়েছে এই বেআইনি হোটেল ও রিসর্ট। এর পিছনে যে প্রভাবশালীদের যোগ আছে, তা সবাই জানে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আর্জি, মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। পরিবেশ বাঁচানোও জরুরি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ