সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ইছামতী নদীর বুকে এখন ফসল ফলছে। নাব্যতা হারিয়ে ইছামতী ধুঁকছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। একদা স্রোতস্বীনি এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল মানুষের বসতি। নদীকে ঘিরেই আবর্তিত হতো বাসিন্দাদের জীবন জীবিকা। এপার ও ওপার বাংলা মিলিয়ে ইছামতীর দৈর্ঘ্য ২৮৪ কিলোমিটার। এই নদীই এক সময়ে হাজার হাজার মানুষের অন্নসংস্থান করত। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা। নদীর এই বেহাল দশায় অনেকেই বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন। ইছামতীর উৎসমুখ মাজদিয়ার ৫৯ নম্বর মৌজার পাবাখালির কাছে। এখান থেকে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা কালাঞ্চি পর্যন্ত ইছামতী প্রায় ১০০ কিমি দীর্ঘ। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ১৯ কিমি ও হাঁসখালি ব্লকে প্রায় ২১ কিমি প্রবহমান রয়েছে এই নদী। এছাড়া প্রায় ৬০ কিমি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। নানা কারণে নদীর গতিপথের বেশির ভাগই বর্তমানে মজে গিয়েছে। অবৈধ ভেড়ি, বাঁধালেও নদী গতি হারিয়েছে। ক্রমশ কচুরিপানা ও পলি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে। এই অবস্থায় নদীর মাছ ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। অসাধু কারবারিদের হাতে পড়ে হাঁসফাঁস করছে ইছামতী। বাঁধালগুলোর সঙ্গে মিহি জাল লাগানো থাকে। জালে লেপ্টে যাওয়া মাছ কয়েক দিন অন্তর অন্তর ধরা হয়। নদীর জলকে আটকে রাখা বা বাঁধাল সম্পূর্ণ অবৈধ। নদীতে গাছের ডাল-পালা ফেলে অবৈধ ‘কোমড়’-ও তৈরি করা হচ্ছে। এই গোটা ব্যবস্থায় যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক নেতাদের মদতে ও তাদের লগ্নি করা টাকায় এই প্রক্রিয়া চলে বলেও অভিযোগ।



