নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইসিডিএসে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণায় অভিযুক্ত শুভজিৎ দাসের বিরুদ্ধে নতুন তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা। শুধু প্রতারণা নয়, ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরির ব্যবসা ফেঁদেছিল সে। মোটা টাকার বিনিময়ে তৈরি হতো ভারতীয় আধার, ভোটার, রেশন কার্ড। তা দিয়ে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট তৈরি করেছে। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে বনগাঁ জেলা পুলিসের।
২৭ আগস্ট বাগদা থানা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় মণ্ডল অভিযোগ করেন, স্ত্রীকে আইসিডিএসের ম্যানেজার পদে চাকরি পাইয়ে দেবে বলে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে শুভজিৎ। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত দেওয়া তো দূর, উল্টে তাঁকে ঘোরাচ্ছে অভিযুক্ত। তার ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা রুজু করে শুভজিৎকে ২৭ তারিখই গ্রেপ্তার করে বাগদা থানা। তদন্তে উঠে আসে, আইসিডিএসে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক জনকে সে প্রতারণা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান অফিসাররা। জানা যায়, জাল রেশন কার্ড, ভোটার, আধার কার্ড তৈরির কারবার ফেঁদেছে সে। সাইবার ক্যাফেতে বসে বাগদা এলাকার বিভিন্ন পঞ্চায়েতের বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করছে। তার ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে রেশন, ভোটার কার্ড সহ অন্য নথি। প্রতারিতদের জমা দেওয়া নথি ব্যবহার হচ্ছে জাল নথি তৈরির সময়। নাম ও পদবি এক রেখে ঠিকানা, ছবি পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের কাছে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের বার্থ সার্টিফেকেট তৈরির ফরম্যাট রয়েছে। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারছেন, এই নথিগুলি তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যেত বনগাঁয় সীমান্ত পারাপারে জড়িত ধুর পার্টি ও পাসপোর্ট তৈরির দালালচক্র। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের এই নথির বিনিময়ে ভারতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। এরপর এই নথি জমা দিয়ে আধার সেবা কেন্দ্র থেকে তৈরি হয়েছে আসল আধার। যার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। অভিযুক্ত নিজেও জাল আধার তৈরি করে দিয়েছে। বিনিময়ে ভালো টাকা রোজগার করেছে অভিযুক্ত। শুধু বাংলাদেশি নয়, নথি না থাকায় যাঁরা পাসপোর্ট করতে পারছিলেন না, তাঁদের অনেকেই অভিযুক্তের কাছ থেকে নথি কিনেছেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রতারিতদের জমা দেওয়া নথি ব্যবহার করে তাঁদের নামে যে জাল আধার, ভোটার, রেশন কার্ড তৈরি করে সেগুলি জমি কেনার কাজে ব্যবহার করেছে। প্রতারিতদের সই নকল করেছে অভিযুক্ত। জাল নথি ব্যবহার করে অভিযুক্ত নিজে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছে। কারা এই নথি কিনেছে তার কাছ থেকে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।