নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আসানসোল শিল্পাঞ্চলে শিশুশিক্ষার বেহাল দশা। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ পুর এলাকায় আইসিডিএস কেন্দ্রের নেই কোনও নিজস্ব বিল্ডিং। দয়া-দাক্ষিণ্যেই চলছে দরিদ্র শ্রেণির শিশু ও মায়েদের পুষ্টি প্রদানের পরিষেবা। নিজস্ব ভবন না থাকার ফলে উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু পরিকাঠামোর ঘাটতিই নয়, আইসিডিএসগুলিতে কর্মী সঙ্কটও প্রবল। কোথাও কেন্দ্র চালাচ্ছেন অঙ্গনওয়াড়ি হেল্পার। কোথাও আবার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীই রান্না থেকে পড়াশোনা—সবই সামলাচ্ছেন দশভূজা হয়ে।
জানা গিয়েছে, ১০৬টি ওয়ার্ড নিয়ে আসানসোল পুর এলাকার ব্যপ্তি। সবমিলিয়ে পাঁচটি সুসংহত শিশুবিকাশ প্রকল্প চলে। আসানসোল-১ আরবান প্রকল্পে মোট আইসিডিএস কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৩টি। তার মধ্যে নিজস্ব বিল্ডিং রয়েছে মাত্র দু’টি কেন্দ্রের। প্রতি সেন্টারে একজন করে কর্মী ও একজন করে হেল্পার থাকার কথা। সেই হিসেবে ৪২৬ জন কর্মীর প্রয়োজন। সেখানে কর্মী রয়েছেন মোট ১৩৭ জন এবং হেল্পারের সংখ্যা ১৩০। অর্থাৎ, কর্মী ও হেল্পার মিলিয়ে কাজ করছেন মোট ২৬৭ জন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আসানসোল-২ আরবান প্রকল্পের অধীনে আইসিডিএস কেন্দ্র রয়েছে ১৮২টি তারমধ্যে আটটি কেন্দ্রের নিজস্ব বিল্ডিং রয়েছে। ১৪৯ জন কর্মী ও ১৪৩ জন হেল্পার রয়েছেন। কুলটি আরবান প্রকল্পে ২৪৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে নিজস্ব বিল্ডিং রয়েছে। সেখানে কর্মী রয়েছেন ১২৪ জন, হেল্পার ১০৩ জন। জামুড়িয়া আরবান প্রকল্পে ৮৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি নিজস্ব বিল্ডিং রয়েছে। ৬৬ জন কর্মী ও ৭৯ জন হেল্পার রয়েছেন। একই ভাবে রানিগঞ্জে আরবান প্রকল্পের ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২৩ টি কেন্দ্র নিজস্ব বিল্ডিংয়ে চলে।
পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট পুর এলাকার বেশিরভাগ আইসিডিএস কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও ঠিকানা নেই। কখনও ক্লাব ঘর, কমিউনিটি হল ভাড়া করে চালানো হচ্ছে। কোথাও আবার স্কুলের দয়ায় এক কোণে ঠাঁই হয়েছে আইসিডিএস কেন্দ্রের। পরের ঘরে বাস করে কম লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয় না কেন্দ্রের কর্মী, হেল্পারদের। কখনও ভাড়াটিয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভাড়া নিয়মিত না মেটালে তালা বন্ধ করে দেন। কিছু কিছু স্কুলের শিক্ষকরা আইডিসিএস কেন্দ্রের কর্মীদের শৌচালয় ব্যবহার করতে দেন না। নিজস্ব ঘর না থাকায় সব কেন্দ্রের গ্যাসের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বহু কেন্দ্রেরই নেই জল ও বিদ্যুতের সংযোগ। গরমে দগ্ধ হয় শহরের খুদেরা। তুলনামূলক বিচারে অনেক ভালো রয়েছে ব্লকে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি।
শহরের এইসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর দুর্বলতা কাটাতে উঠে পড়ে লেগেছে জেলা প্রশাসন। প্রতি মাসে মিটিং করা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলির বিল্ডিং করার জন্য খাস জায়গা দেখা হচ্ছে। নতুন করে ৪৫টি জায়গায় আইসিডিএসের নিজস্ব বিল্ডিং হতে চলেছে। আইসিডিএসে জেলা প্রকল্প আধিকারিক বিপ্লব দাস বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব নিজস্ব বিল্ডিং তৈরি করতে।