সংবাদদাতা, ঝালদা : লোকের বাড়িতে বাসন মেজে সংসার চালাই। আমার স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ভোটের আগে বিজেপি বলেছিল মাসে মাসে তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা দেবে। ভোট নেওয়ার পর এখন টাকা পাচ্ছি না। কীভাবে সংসার চালাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পিঙ্কি মাঝি। পিঙ্কি উদাহরণমাত্র। তাঁর মতো বহু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত। এদিন পুরসভায় ভিড় করে বিক্ষোভ দেখান সকলেই।
সকাল থেকেই পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে একের পর এক ওয়ার্ড থেকে মহিলারা এসে জড়ো হতে থাকেন। সবার একটাই অভিযোগ, অন্নপূর্ণা টাকা পাচ্ছেন না। কেউ আবার প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও আর কোনও টাকা পাননি। অনেকের ক্ষেত্রে পোর্টালে ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ বা ‘আন্ডার প্রসেস’ দেখাচ্ছে। কেউ আবার আবেদন করার পরও পোর্টালে আবেদন জমা পড়েনি বলে দেখতে পাচ্ছেন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় সমীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও বহু মহিলা এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সূর্যসেন পল্লির বাসিন্দা গীতা মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে সার্ভে করতে এসেছিলেন পুরসভার দুই কর্মী। বাড়িতে দু’টি ঘর থাকলেও সার্ভে রিপোর্টে তিনটি ঘর দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি যোজনার টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে, কোয়েল মণ্ডলের দাবি, তাঁর স্বামী জয়প্রকাশ মণ্ডল এসএসসি গ্রুপ ডি-তে চাকরি করতেন। ১৮ মাস আগে চাকরি চলে গিয়েছে। এখন আর কোনো সরকারি বেতন পান না। জমানো টাকা দিয়ে কোনওরকমে সংসার চলছে। অন্নপূর্ণায় আবেদনের স্ট্যাটাসে দেখাচ্ছে তাঁর স্বামী এখনও সরকারি চাকরি করেন। ফলে তিনি ভাতা পাচ্ছেন না।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, কোথাও আত্মীয়ের বাড়ির ঘরকেও আবেদনকারীর বাড়ির ঘর হিসেবে ধরে সার্ভে করা হয়েছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরেজমিনে তদন্ত বা ফোন না করেই আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক উপভোক্তার পোর্টালে ধর্মের তথ্যেও ভুল থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে।
সবমিলিয়ে অন্নপূর্ণা নিয়ে ‘অন্নপূর্ণা’দের অভিযোগের পাহাড়। ভিন জমানো সব মহিলারাই ব্যাপক ক্ষুব্ধ। এদিন পুরসভা চত্বরে তারই বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরুলিয়া সদর থানার আইসি শিবনাথ পাল-সহ পুলিশ আধিকারিকরা চলে আসেন। পরে মহিলারা পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভ ওঠে।
বিজেপির পুরুলিয়া জেলা মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন, ‘পুরুলিয়া পুরসভা এলাকায় এখনও কেন মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না, তা ভাবার বিষয়। জেলার অন্যান্য জায়গায় টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। পুরসভার কাজে কোথাও খামতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুরুলিয়ার বিধায়ক সহ আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ অন্নপূর্ণায় টাকা দেওয়া নিয়ে সরকারের সদ্দিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোর বলেন , ‘সরকার যদি সত্যিই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিতে চায়, তাহলে দ্রুত সমস্ত মহিলাকে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। প্রথমে বলা হয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সকল প্রাপক অন্নপূর্ণার সুবিধা পাবেন। পরে একের পর এক নিয়ম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বড় আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।’