আইএফএ শিল্ড। নামের মধ্যেই ঐতিহ্য। ১৮৯৩ সালে পথ চলা শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতার। ১৯১১ সালে ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয় মোহন বাগান। তবে সবচেয়ে বেশিবার এই খেতাব ঘরে তুলেছে ইস্ট বেঙ্গল (২৯)। শিল্ড ঘিরে ময়দানে রাশি রাশি নস্টালজিয়া।
বাসুদেব মণ্ডল: ডার্বিতে ফেভারিট হয় না। বড় ম্যাচ সবসময় ফিফটি-ফিফটি। অতীতে এমন উদাহরণ প্রচুর। ২০০৩ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনালও তার অন্যথা নয়। সেবার টাই-ব্রেকারে ইস্ট বেঙ্গলকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে খেতাব জেতে মোহন বাগান। ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে আন্ডারডগ ছিলাম আমরাই। কিন্তু ওই যে! ডার্বি যে কোনও অঙ্ক মানে না। তাই এই ম্যাচ আমার কেরিয়ারে অন্যতম স্পেশাল।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৩। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। বিশেষজ্ঞরা এগিয়ে রেখেছিলেন ইস্ট বেঙ্গলকেই। লাল-হলুদ ব্রিগেড রীতিমতো তারকাসমৃদ্ধ। মুসা, আলভিটো, টুলুঙ্গা, সুরেশ, ষষ্ঠীরা টগবগিয়ে ফুটছে। তাই বেশ চাপে মোহন বাগান। আক্রমণে ব্যারটো, মার্কোস থাকলেও রক্ষণ তুলনায় অনভিজ্ঞ। এমনকী সুনীল ছেত্রীও সদ্য তরুণ। গা থেকে স্কুলবয়ের গন্ধ যায়নি। বাবুন কর, দেবকুমার শাসমল, ঋষি কাপুররা বোধহয় অন্যরকম ভেবেছিল। নির্ধারিত নব্বই মিনিটে দাঁত ফোটাতে পারেনি প্রতিপক্ষ। বরং অল্পের জন্য ব্যারটোর হেড বাইরে যায়। অসম্ভব ওয়ার্কলোড নিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান মার্কোস পেরেরা। কোচ অলোক মুখার্জি আমায় প্রথম একাদশে রাখেননি। ৪৬ মিনিটে মণিতোম্বি সিংয়ের পরিবর্তে মাঠে নামি। সেদিন চোয়ালচাপা জেদ দেখেছিলাম সতীর্থদের চোখে। যাই হোক, নির্ধারিত সময়ের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোলশূন্য থাকায় ফায়সালা হয় টাই-ব্রেকারে। ব্যারেটো, পলাশ, মেহতাব, সুনীল ছেত্রী ও লোলেন্দ্র সিং ঠান্ডা মাথায় জাল কাঁপায়। অন্যদিকে, ইস্ট বেঙ্গলের সুরেশ গোল করতে ব্যর্থ হতেই কেল্লা ফতে। দু’হাতে মুখ ঢেকে ডাগ-আউটে বসেছিলাম বহুক্ষণ। মাঠে তখন মোহন বাগান পতাকা হাতে ভিকট্রি ল্যাপ দিচ্ছে গোটা দল।