Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমি ফিরে আসব, তোমরা তৈরি থেকো’: বিপ্লবী শতমণ্যু কুমারকে বলে গিয়েছিলেন নেতাজি

‘আমি আবার ফিরে আসব। শেষ আঘাত হানতে তোমরা সবাই প্রস্তুত থেকো।’ মহানিষ্ক্রমণের ঠিক আগে বিপ্লবী শতমণ্যু কুমার পতিকে বলে গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার খবরের পরেই শতমণ্যুর ঝাড়গ্রামের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশ হানা দিয়েছিল।

‘আমি ফিরে আসব, তোমরা তৈরি থেকো’: বিপ্লবী শতমণ্যু কুমারকে বলে গিয়েছিলেন নেতাজি
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ‘আমি আবার ফিরে আসব। শেষ আঘাত হানতে তোমরা সবাই প্রস্তুত থেকো।’ মহানিষ্ক্রমণের ঠিক আগে বিপ্লবী শতমণ্যু কুমার পতিকে বলে গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার খবরের পরেই শতমণ্যুর ঝাড়গ্রামের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশ হানা দিয়েছিল। মাটিতে পুঁতে রাখা ছাপাখানার মেশিন ও সুভাষ সংক্রান্ত নথি আজও উদ্ধার হয়নি। 

Advertisement

সময়টা ১৯২৮ সাল।বাংলায় নতুন করে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে।মেদিনীপুরকে সশস্ত্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তকে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের মেদিনীপুর শাখার দায়িত্ব দিয়ে পাঠান সুভাষ। মেদিনীপুরে বিভি-রপ্রথম সম্মেলন১৯২৯ সালে আয়োজন করা হয়। সুভাষচন্দ্র সম্মেলনে যোগ দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘তোমরা যুব সম্প্রদায়।আমি শুধু একটা কথাই জানতে চাই, যারা দেশের কাজ করতে চাও, তারা কি সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত?’ বিপ্লবী বিমল দাসগুপ্ততাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেগিয়েছেন, ‘সম্মেলনে আমরা তাঁর আহ্বান গ্ৰহণ করেছিলাম।’ পাড়ায় পাড়ায় ব্যায়াম ক্লাব গড়ে তোলা হয়। লাঠি খেলা, ছোরা চালানো, কুস্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল। শরচন্দ্রের ‘পথের দাবি’, বিবেকানন্দের বই, রাশিয়া ও আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের বইপড়তে দেওয়া হতো। শুরু হয় আন্দোলনের নতুন পর্ব।বিভি সংগঠনের হাতে ১৯৩১ সালে জেলাশাসক জেমস পেডি, ১৯৩২ সালে রবার্ট ডগলাসও ১৯৩৩ সালে বার্নার্ড বাজ নিহত হন। ইংরেজ পুলিশ দিশেহারা হয়ে জেলায় চরম দমন পীড়ন শুরু করে। সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পনা মতো অরণ্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। বেলপাহাড়ী গজ পাহাড়ের গুহা তখন বিপ্লবীদের গোপন আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।সংগঠনের একাধিক সদস্য ধরা পড়ায় রণকৌশলে সাময়িক বদল আনা হয়।ঝাড়গ্রামের দুর্গা ময়দানে, অর্থাৎ তৎকালীন লালগড় মাঠে ১৯৪০ সালের ১২ মে সুভাষচন্দ্র জনসভা করতে আসেন। সেইময় বেলিয়াবেড়ার বাসিন্দা কুমুদ কুমারী ইনস্টিউশনের ছাত্র কিশোর শতমণ্যু পতি জনসভায় যোগ দেওয়ার কারণে স্কুল থেকে বিতাড়িত হন। সংগঠনের নির্দেশ তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ায় হয়। সেখানেই তাঁর পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। অচিরেই সুভাষচন্দ্রের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। মহানিষ্ক্রমণের আগে সুভাষচন্দ্র তাকে বলে যান, আমি ফিরে আসব। তোমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থেকো। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গ্ৰেপ্তার হয়েছিলেন। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ হতেই ব্রিটিশ পুলিশ তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল। জেরায় পুলিশ সুভাষের সম্পর্কে কোনো তথ্যই বার করতে পারেনি। শতমণ্যুর নাতি,ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দাপেশায় শিক্ষকমৃন্ময় হোতা বলেন, শতমণ্যু কুমার পতির সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মামার বাড়িতে সুভাষচন্দ্রের সই করা পাঠানো বইএখনও রয়েছে। বড় হয়ে দাদুর কাছেই শুনেছি,সুভাষচন্দ্রের হাত ধরে তিরিশের দশকে বিপ্লবী আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছিল। কলকাতায় থাকাকালীন সুভাষচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।মহানিষ্ক্রমণের ঠিক আগে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।ব্রিটিশ সরকার বিরোধী লড়াইয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে দাদুকে জেরা করা হয়েছিল।বাড়ির মধ্যেই ছাপার মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তিনি মাটিতে পুঁতে সিমেন্ট দিয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন।পুলিশ যাতে তার কোন হদিশ না পায়। নথিপত্রগুলি হয়তো আর পাওয়া যাবেনা। কিন্তু ছাপার মেশিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ