সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও: কিংবদন্তি গোলরক্ষক! ভারতীয় ফুটবলে ব্রহ্মানন্দের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল ও সালগাওকরে দাপিয়ে খেলেছেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী ও অর্জুন পুরস্কারে তাঁকে ভূষিত করা হয়। গোয়ার তেলেগাঁওয়ে সেন্ট মাইকেল চার্চের পাশে নিজের ফ্ল্যাটে বসে বর্তমানকে একান্ত সাক্ষাত্কারে অকপট ব্রহ্মানন্দ।
প্রশ্ন: ৭১ বছরেও দারুণ ফিট! এমন ফিটনেসের রহস্য কী? অবসরজীবন কেমন কাটছে?
ব্রহ্মানন্দ: কার অবসর? ফুটবলারদের অবসর হয় না! হ্যাঁ, কাজ হয়তো বদলেছে। তবে ফুটবল মাঠে আগের মতোই সাবলীল (হেসে)। আসলে মাঠই আমার সবকিছু।
প্রশ্ন: ফুটবলের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত আছেন?
ব্রহ্মানন্দ: কোভিডের আগে বাচ্চাদের কোচিং করাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছুই থমকে যায়। এখন ক্লুব দ্য সালগাওকরের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছি।
প্রশ্ন: আপনার নেতৃত্বে গোয়া প্রথমবার সন্তোষ ট্রফি জেতে। অনুভূতিটা কেমন ছিল?
ব্রহ্মানন্দ: মনে আছে আপনাদের? মোহন বাগান মাঠে ফাইনাল! ১৯৮২-৮৩ সাল। ৫ মার্চ ম্যাচ ড্র। পরের দিন, অর্থাৎ ৬ মার্চ আমার জন্মদিন। সেদিনও খেলার মীমাংসা হল না। ফলে বাংলা-গোয়া যুগ্মবিজয়ী। প্রথম ছয় মাস গোয়ায় ট্রফি ছিল। পরের ছয় মাস বাংলায়। সে দারুণ অনুভূতি। পরের বার আমরা দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই।। ৮ ম্যাচে কোনও গোল হজম করিনি।
প্রশ্ন: কলকাতায় খেলার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ব্রহ্মানন্দ: ‘কলকাত্তা কা জান হি কুছ আলগ হ্যায়।’ একটা ঘটনা কোনওদিন ভুলব না, ১৯৮০ ফেডারেশন কাপে মোহন বাগান ২-০ হারিয়েছিল আমাদের (সালগাওকর)। কিন্তু ওই ম্যাচে আমার এক সেভ খুব পছন্দ হয়েছিল কলকাতার এক ভদ্রলোকের। নাম মনে নেই। পদবি ব্যানার্জি। তিনি আমার হোটেলে ব্ল্যাঙ্ক চেক পাঠিয়েছিলেন। সঙ্গে চিঠিতে লেখা ‘আপনার মতো গোলকিপার দেখিনি। চেক ভাঙিয়ে টাকা তুলে নৈশভোজ সারবেন। এটা আমার উপহার।’
প্রশ্ন: আপনার কাছে তো কলকাতার ক্লাবেরও অফার ছিল। শোনা যায় লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনাটা ঠিক কী?
ব্রহ্মানন্দ: কলকাতার মানুষ খুব আবেগপ্রবণ। যেটা ফুটবলের জন্য খুবই ভালো। বাঙালি বন্ধুদের কাছে শুনতাম, কোনও ম্যাচ ভালো না গেলে ফুটবলাররা বাইরে বেরোতে পারত না। (আবার হাসি) গোয়ায় সেই চাপ নেই। তবে এটা ঠিক, কলকাতার ক্লাবে না খেলার আপশোস সারাজীবন থাকবে।
প্রশ্ন: জাতীয় দলে আপনার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
ব্রহ্মানন্দ: অবশ্যই ভাস্কর গাঙ্গুলি। হেলদি কম্পিটিশন। ও খুবই সাহসী গোলকিপার। আমাদের সম্পর্কও খুব ভালো ছিল। এখনও মাঝেমধ্যে কথা হয়। তবে আমার চোখে সেরা গোলকিপার তরুণ বসু।
প্রশ্ন: বর্তমান ভারতীয় ফুটবল নিয়ে আপনার মূল্যায়ন ঠিক কী?
ব্রহ্মানন্দ: আমাদের সময় সিস্টেম অনেক ভালো ছিল। রোভার্স, ফেডারেশন কাপ, নাগজি, স্ট্যাফোর্ডের মতো অসংখ্য টুর্নামেন্ট হতো। এখন প্লেয়াররা ক’টা ম্যাচ খেলে? মাথায় রাখতে হবে, প্র্যাকটিস ম্যাচের সঙ্গে টুর্নামেন্টের বিস্তর পার্থক্য। আইএসএলে প্রোমোশন-রেলিগেশন নেই। কম্পিটিশন কোথায়? বাইচুং-সুনীলের পর চোখে পড়ার মতো স্ট্রাইকার নেই। আমার মত, দেশে একটাই লিগ করা হোক। যেখানে রেলিগেশন-প্রমোশন থাকবে।