ব্রহ্মানন্দ: ২৫ বছরের ম্যারাথন কেরিয়ার। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, ফুটবল দেবতার আশীর্বাদ পেয়েছি বরাবর। তা সত্ত্বেও আপশোস যাওয়ার নয়। কেন জানেন? কলকাতা ডার্বি খেলার সৌভাগ্য এই অধমের কখনও হয়নি। এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের সেরা বিজ্ঞাপন। উত্তেজনা, উন্মাদনায় জুড়ি মেলা ভার। জাতীয় শিবিরে ফুটবলারদের আড্ডায় অটোমেটিক চয়েস ছিল ‘বড় ম্যাচ।’ ভাস্কর, মিহির, অলোকদের মুখে ডার্বির গল্প শোনার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। মনে হত, এই ম্যাচ না খেললে গোয়ানিজ ব্রহ্মার জীবন বৃথা! যাই হোক, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর সুযোগ এসেছে চলতি সুপার কাপে। শুক্রবার ফাতোরদায় মেগা ম্যাচ। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।
টেকনিক্যাল বিশ্লেষণে আসা যাক। প্রাক্তন গোলরক্ষক হওয়ার সুবাদে বাড়তি নজর থাকবে বিশাল ও গিলের দিকে। শিল্ড ফাইনালের নায়ক বিশাল। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে যেভাবে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছে তার তারিফ করতে হয়। রিফ্লেক্স তুঙ্গে থাকলেই এমনটা সম্ভব। পাশাপাশি গ্রিপিং, আউটিং প্রশংসাযোগ্য। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গিলের চেয়ে ও কিছুটা এগিয়ে। সাম্প্রতিককালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছে বিশাল। কোচ খালিদ জামিলের সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবে নিশ্চিতভাবে। অন্যদিকে, ইস্ট বেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল তেতে থাকবে। শিল্ড ফাইনালে টাই-ব্রেকারের আগে ওকে বসানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফাতোরদায় সেই সম্ভাবনা নেই। নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ ওর সামনে। এই ধরনের চাপের ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি। বরফশীতল মস্তিষ্কে গোলরক্ষা করে বিশাল। নিজেকে শান্ত রাখার কৌশলও একটা আর্ট। তাতে মনঃসংযোগ ধরে রাখা সুবিধাজনক। গিলেরও উচিত নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা। দুরন্ত পারফরম্যান্স ওর সামনেও জাতীয় দলের দরজা কুলে দিতে পারে।