Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ভ্যাবলা স্টেশনে আন্ডারপাসের জন্য লোকসভায় দরবার করব’

গত প্রায় দেড় বছর বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে কোনো সাংসদ নেই। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে এখান থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলাম

‘ভ্যাবলা স্টেশনে আন্ডারপাসের  জন্য লোকসভায় দরবার করব’
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গত প্রায় দেড় বছর বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে কোনো সাংসদ নেই। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে এখান থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলাম। ওই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে এই লোকসভায় উপনির্বাচন হয়নি। এই বিষয়কে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়াল তৃণমূল। শনিবার দুপুরে স্থানীয় গুলাইচণ্ডীর মাঠে তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্রের সমর্থনে সভা থেকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ভ্যাবলা আন্ডারপাসের বিষয়টি তিনি নিজেই লোকসভায় তুলবেন। তাঁর কথায়, ‘বসিরহাটে কোনো সাংসদ নেই। তাই এই এলাকার মানুষের সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।’

Advertisement

এই সূত্রেই অভিষেকের অভিযোগ, ‘পরিকল্পিতভাবেই নির্বাচন করানো হচ্ছে না। ওরা জানে, এখানে ভোট হলে বিজেপি ৫ লক্ষ ভোটে হারবে। তাই ভোট এড়িয়ে যাচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। শুধু তাই নয়, স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ভ্যাবলা স্টেশনে আন্ডারপাস এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। সেই দাবি হাতিয়ার করেই এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘সাংসদ না থাকার ফলে বসিরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক প্রকল্প ঝুলে রয়েছে। তাই এই ভোট শুধুমাত্র কোনো প্রার্থীকে জেতানো নয়, বরং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।’ সেই সঙ্গে ভোটের অঙ্কও স্পষ্ট করে দেন তৃণমূল সেনাপতি। বসিরহাট ও টাকি পুরসভা এলাকায় লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূলের পিছিয়ে রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, ‘এসআইআর করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।’ ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘কাজের ছেলে তৃণমূল প্রার্থী বাদলকে জেতান। কোথাও যদি কাজে খামতি থাকে, ছ’মাস পরে পুরসভা নির্বাচনে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ অর্থাৎ এই ভোটকে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াই হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। 
এদিকে, সভায় সংগঠন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানকার বিদায়ী বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করেন একটি সভায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘সপ্তর্ষি যথেষ্ট ভালো কাজ করেছে। দল ওঁকে সাংগঠনিকভাবে আরও বড়ো দায়িত্ব দেবে। ও দলের একনিষ্ঠ কর্মী। ওর উপর আমাদের আস্থা, ভরসা ও বিশ্বাস রয়েছে।’ সব মিলিয়ে, বসিরহাটে ‘সাংসদ শূন্যতা’, স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যু, সংগঠনকে চাঙ্গা করা ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই এদিনের সভা থেকে নির্বাচনি প্রচারের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ