নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু অধিকার দিবসের দিনই পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভালের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি ফের একবার করে গর্জে উঠলেন ধর্মের নাম করে বাংলাকে বদনাম করার বিরুদ্ধে। বড়দিনের সূচনায় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ বাংলার বদনাম করে, কিন্তু আমরা সব ধর্ম, সব বর্ণ এবং সব সম্প্রদায়কে ভালোবাসি। বাংলায় সমুদ্র থেকে হিমালয়, সবই আছে। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল আমাদের মানবতা, একতা এবং ভালোবাসা।’
এদিন অ্যালেন পার্ক থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের নানান প্রান্তে ১৪টি জায়গায় ক্রিসমাস ফেস্টিভালের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সংস্কারের পর দার্জিলিংয়ের সেন্ট অ্যন্ড্রিউজ চার্চেরও এদিন উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সঙ্গে মানুষকে আনন্দে থাকার কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘উৎসব মানুষকে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়, একে অপরের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দেয়।’
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবসে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের তরফে বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে এক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। আবার এদিনই ছিল ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস। বিশাল সংখ্যায় আদিবাসী, সংখ্যালঘু মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলেন এই সমাবেশে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ ওয়েয়াজুল হক বলেন, ধর্ম ও রাজনীতি এখন মিলে মিশে গিয়েছে। কেউ মন্দির বা মসজিদ তৈরি করতেই পারেন। কিন্তু তার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা উচিত নয়। এর পাশাপাশি ওয়াকফ বিল, এসআইআরের মাধ্যমে সংখ্যালঘু হেনস্তা নিয়েও তাঁরা সরব হয়েছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে এক মহিলার হিজাব খোলার ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, দেশের সম্প্রীতি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ অত্যন্ত কৌশলী। ওঁরা সবসময় দেশের মানুষকে নানা ধরনের কাজে ব্যস্ত রাখছেন। সেই নোটবন্দি থেকে এখনকার এসআইআর। সমাবেশ থেকে ওয়েয়াজুল হকের নেতৃত্বে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে ডেপুটেশন দিতে যায় সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল।