Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলীদের নিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না: শমীক

রাজনৈতিক ভূমিকম্প এখন তৃণমূলের অন্দরে! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। সাংসদ, কাউন্সিলর, মুখপাত্ররা ছাড়ছেন দলীয় পদ।

তৃণমূলীদের নিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না: শমীক
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজনৈতিক ভূমিকম্প এখন তৃণমূলের অন্দরে! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। সাংসদ, কাউন্সিলর, মুখপাত্ররা ছাড়ছেন দলীয় পদ। আবার পদে থাকা সাংসদ, বিধায়করা প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। তৃণমূলের দুই সাংসদের অন্তর্কলহ পৌঁছে গিয়েছে সংসদ ভবন পর্যন্ত। ‘গৃহদাহ’ এভাবে ‘দাবানল’-এ পরিণত হওয়ায় জোড়াফুল শিবিরের অনেকেই বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলে সন্দেহ বাড়ছে জনমানসে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার ‘যোগদান’ প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দু’দিন আগে আওড়ানো ‘ভালো তৃণমূলে’র তত্ত্ব থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘কোনো তৃণমূল নেতা যদি ভেবে থাকেন নিজের সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য বিজেপিতে আসবেন, তাহলে তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। যাদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন, সমাজকে যারা খোলা বাজারে পরিণত করেছে, তাদের বিজেপিতে গ্রহণ করে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’ আগামী তিনমাস তৃণমূল অথবা অন্য দল থেকে যোগদান বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। 

Advertisement

তাতে অবশ্য তৃণমূলের অন্দরে মুরগি লড়াই থামেনি। বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার আগেই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এদিন তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলেরই অপর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। নীল কালিতে লেখা আট লাইনের চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, ‘সংসদের মধ্যেই একাধিকবার আমাকে অপমানিত করেছেন এবং খারাপ শব্দ ব্যবহার করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন মহিলা সাংসদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন উনি।’ সেকথা শুনে পালটা চিঠি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কল্যাণবাবু। তিনি বলেন, ‘কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আমি কবে, কোন সময় সংসদে অপমান করেছি, তার দিন-তারিখ তো বলতে হবে। যখন ইচ্ছা একটি অভিযোগ করে দিলাম, সেটা তো হয়না। আর নারদা দুর্নীতিতে টাকা নেওয়া কিংবা সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্যে অভিযোগের আঙুল তো ওঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। সংসদ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?’ একইসঙ্গে তাঁর আরও প্রশ্ন, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কেন দলের অন্দরে আলোচনা করছেন না কাকলি? আজ যদি তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসত, উনি কি একই আচরণ করতেন? এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই কল্যাণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কাকলির ছেলে চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার।
এদিনই তৃণমূল মুখপাত্রর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আর জি করের ঘটনা, চাকরি বিক্রি সহ অনৈতিক কাজ এবং দুর্নীতির জন্য মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেই অবস্থায় আমি তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে সহমত নই।’ তৃণমূল মুখপাত্রর পদ ছেড়েছেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীও। আবার তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে একরাশ অভিযোগ তুলেছেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘যে দুর্নীতি তৃণমূল করেছে, তাতে ভবিষ্যতে এই দল আর থাকবে না।’ তৃণমূল নেতা তথা মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবের আবার মন্তব্য, ‘পঞ্চায়েত, পুরসভা থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূলের শাসনকালে। যে কারণে এখন তৃণমূল নেতাদের চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আমি আপস করিনি বলেই দলে বঞ্চিত থেকে গিয়েছি।’ ঘটনাচক্রে এদিনই নিমতা থানার সামনে দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। ছোড়া হয়েছে ডিমও।

সম্পর্কিত সংবাদ