Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপিকে বেলাইন করব: মমতা, বাংলার মানুষকে আর লাইনে দাঁড়াতে দেব না

নোট বাতিল, এসআইআর, গ্যাস সংকট। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘জনবিরোধী’ পদক্ষেপে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হয়ে চলেছে দেশবাসী। প্রথমে লাইন ছিল নোটের জন্য, তারপর এসআইআর

বিজেপিকে বেলাইন করব: মমতা, বাংলার মানুষকে আর লাইনে দাঁড়াতে দেব না
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০৩
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, পাণ্ডবেশ্বর: নোট বাতিল, এসআইআর, গ্যাস সংকট। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘জনবিরোধী’ পদক্ষেপে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হয়ে চলেছে দেশবাসী। প্রথমে লাইন ছিল নোটের জন্য, তারপর এসআইআর, আর এখন রান্নার গ্যাস। চাকরি গিয়েছে, অন্ন সংস্থান ধাক্কা খেয়েছে, হারিয়েছে ভোটাধিকারও। এখানেই কি শেষ? একের পর এক প্রাণ চলে গিয়েছে এই লাইনেই। মানুষ তা ভুলে যায়নি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা ভুলতে দেননি। দেবেনও না। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বর হোক, বা দুবরাজপুর—তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এই পাহাড়প্রমাণ হয়রানির বদলাই বাংলা নেবে বিজেপির থেকে। মহারণ’২৬-এ। বাংলার জনপ্লাবনকে সাক্ষী রেখে তাঁর হুংকার, ‘যে বিজেপি আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে, অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বেলাইন করবই। বাংলার মানুষকে আর লাইনে দাঁড়াতে দেব না।’ 

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিন। কিন্তু চেনা রণংদেহি মেজাজ। তার সাক্ষী? বাংলার মা-বোনেরা। কারণ, এদিনই যে ছিল অন্নপূর্ণা পুজো। তাই এ রাজ্যের দুর্গা, লক্ষ্মী, অন্নপূর্ণাদেরই উদ্দেশ করে প্রতিশ্রুতি দিলেন মমতা, বিচারাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের চিন্তার কিছু নেই। সাংগঠনিকভাবে তাঁদের নিখরচায় আইনি সহায়তা দেবেন তিনি। তবে তার আগে প্রয়োজন বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা। যা এখনও নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে আনেনি। তাই মমতার হুংকার, ‘সাহস থাকলে বিচারাধীন তালিকা প্রকাশ করুক। আসলে ওরা এটা লুকিয়ে রেখে দিয়েছে। এটাই খেলা। তাই আমাকে বলতেই হচ্ছে, পরদে কে পিছে কেয়া হ্যায়?’
এসআইআরে নাম বাদ দেওয়ার পর, জনগণনা বা সেনসাসের নামে এরাজ্যের অর্ধেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ছক সাজানো হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এবারের ভোটটা সকলের কাছেই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ভোটের থেকে আলাদা। তাই নিজের ভোট নিজে দেওয়া—এটা সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মাঠের বাইরে ফেলে দিতে হবে। কারণ, আজ গণতন্ত্র সংকটে।’ রাষ্ট্রপতি শাসন জারির লক্ষ্যেই নির্বাচনের মুখে এসআইআর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মমতা। এক্ষেত্রে বিজেপির আসল লক্ষ্য যে বাংলার মানুষকে হয়রান করা, সেই সমীকরণও বারবার সামনে এনেছেন তিনি। আর এখানেই ভোটার তালিকার সঙ্গে তিনি মিলিয়েছেন গ্যাসের সংকটকে। কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে বলেছেন, ‘মোদিজি ক্ষমতায় আসার আগে গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা। আর এখন হাজার টাকা। গ্যাস নিয়ে আবার অ্যালার্ট করেছে! ওদের অ্যাল্যার্ট করার মানে আমি বুঝি। আবার লকডাউন করবে না তো? করলে করবেন। লকডাউন করে ফের মানুষকে ঘরে আটকে রাখবেন! আগেও করেছিলেন। তখনও আমাদের আটকে রাখা যায়নি। এবারও যাবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ