খেলোয়াড়ি জীবনে আমার কিছু কুসংষ্কার ছিল। ডার্বির দু’দিন আগে থেকেই বাড়ি ফাঁকা করে দিতাম। একা থাকলে আমার বড় ম্যাচ ভালো যেত। সালটা ঠিক মনে নেই। কলকাতা লিগের এক ডার্বির আগে পরিবারের সবাই অন্য বাড়িতে চলে গিয়েছে। কিন্তু ম্যাচের দিন সকাল থেকে আমার পিঠে ব্যথা। ঠিকমতো দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছি না। কোনওক্রমে মাঠে এসে ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলতে নামি। ম্যাচটা মোহন বাগান জিতেছিল। এবং আমিই ম্যাচের সেরা। তখন কলকাতা লিগের বিরাট উন্মাদনা। আমার তো মনে হয়, আই লিগের থেকেও বেশি চাপ থাকত সিএফএলে। জাতীয় লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে তেমন ভিড় হতো না। আর ঘরোয়া লিগে ঘরের মাঠে গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের সামনে খেলা। প্রবল প্রত্যাশার চাপ সামলানো মুখের কথা নয়। কিন্তু, এখন কলকাতা লিগে আগের মতো উন্মাদনা নেই। কোনওরকমে লিগটা চলছে। দেখে সত্যিই কষ্ট হয়।
কলকাতা এমনিতেই ফুটবলপাগল। দলের বিদেশি তারকাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে হাজার হাজার সমর্থক হাজির হচ্ছেন। কিন্তু লিগের ম্যাচে গ্যালারি অনেকটাই ফাঁকা! অন্যতম কারণ হল, ময়দান থেকে জেলাতে বেশিরভাগ ম্যাচ সরানো। ময়দানের ঘেরা মাঠে গ্যালারি ভর্তি সমর্থকদের সামনে লিগের ম্যাচের মাহাত্ম্যই আলাদা। সবচেয়ে বড় সমস্যা, এখন তিন প্রধান কেউ লিগ জেতার জন্য টিম বানায় না। শুধু জুনিয়র খেলালে আকর্ষণ কমতে বাধ্য। অন্তত কয়েকজন সিনিয়র প্লেয়ার খেলানো উচিত। শৌভিক, লিস্টনদের দেখতেই সমর্থকরা মাঠ ভরাবে। ঘরোয়া লিগে ছ’জন ভূমিপুত্র খেলানোর নিয়ম ঘিরে নানা মত রয়েছে। বিদেশি ফুটবলার খেলানোতেও নিষেধাজ্ঞা। বিশ্বাস করি আরও বেশি করে বাঙালি প্লেয়ার উঠে আসা জরুরি। তাই এই নিয়মকে সমর্থন জানাই। আর ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে, কলকাতা লিগের জৌলুস ফেরানোটা আবশ্যক।
ছোট থেকে ফুটবলার হওয়াই স্বপ্ন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার শিলটনের নামেই আমার নাম রেখেছিলেন বাবা। টিএফএ’থেকে ২০০৬ সালে মোহন বাগানে যোগ দিই। সত্যি বলতে কলকাতা লিগই আমার কেরিয়ার গড়েছে। এখনও স্মৃতিতে টাটকা, ব্যাকভলিতে ব্যারেটোর সেই বিখ্যাত গোল। জেতার পর সমর্থকরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে। এই স্মৃতিগুলো আজীবনের সম্পদ। মানুষের আশীর্বাদ, অকুণ্ঠ ভালোবাসায় আমার জীবন পরিপূর্ণ।