সন্তোষ সেন, ব্যবসায়ী, দুবরাজপুর: হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে সিআরপিএফ ও সেনা জওয়ানরা ছুটোছুটি করছেন। দ্রুতগতিতে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ছুটে চলছে। চোখের পলক পড়তেই মাথার উপর একের পর এক হেলিকপ্টার উড়তে শুরু করল। বুঝতে বাকি রইল না যে বড় কোনও অঘটন ঘটেছে। এরই মাঝে হোটেলের ম্যানেজার জানাল জঙ্গি হামলা হয়েছে। বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়ে আঁতকে উঠি।
ভগবানের অশেষ কৃপা। বরাতজোরে প্রাণে বেঁচেছি। ছ’দিন কাশ্মীরে কাটিয়ে পহেলগাঁও যাওয়ার পথে ব্যাট তৈরি কারখানায় ঢুকেছিলাম। সেখানে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আমারই ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে আমাদের সময় কেটে যায়। যাত্রাপথে দেরি হওয়ায় পহেলগাঁওয়ের মিনি সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আড়াইটা নাগাদ হোটেল থেকে রওনা দেব। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে হোটেল থেকে রওনা হওয়ার সময়ই বিপদের আঁচ পাই।
জঙ্গি হামলার কথা বুঝতে পেরে প্রথমে আমরা হোটেলে ঢুকে পড়েছিলাম। তবে আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পর্যটক কয়েক মিনিট আগে রওনা হয়েছিলেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনতেই জোর করে হোটেলের বাইরে পা রাখি। তখন অবশ্য সিআরপিএফের জওয়ানরা সঙ্গীদের ফিরিয়ে আনবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিছুক্ষণ পর সকলেই হোটেলে ফিরে আসেন।
জঙ্গি হামলার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের কর্মীরা দরজা, জানালা সব বন্ধ করে দেন। সেইসঙ্গে হোটেলের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘুম-খাওয়া ভুলে রাতভর ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষা করছিলাম। মনের ভিতরে অজানা ভয় কাজ করছিল। তবে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের কিছুই জানাইনি। যদিও সবাই সব জেনে যান। ফোন আসে একের পর এক।
উৎকন্ঠা ও ভয় নিয়ে আমরা কোনওমতে রাত কাটাই। ভোরের আলো ফুটতেই সকলে গাড়িতে চেপে বসি সকলেই। আমাদের চালক খুব সাহসী। তাঁর নেতৃত্বেই পুঞ্চের পাহাড়ী পথ ধরে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের পথে যাত্রা শুরু হয়। যাত্রাপথেও মনে ভয় কাজ করছিল। তবে শেষ অবধি কাশ্মীর ছেড়ে রাজৌরি প্রবেশ করার পর খানিকটা স্বস্তি ফেরে। কিন্তু হাড়হিম করা ঘটনার আতঙ্ক এখনও পিছু ছাড়েনি। ভূস্বর্গে এসে এমন মূহূর্তের সাক্ষী থাকতে হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি।