Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘বাধ্য হয়ে আমাকে ভাঁড়ামো করতে হয়েছে’

মুক্তির অপেক্ষায় পরিচালক রাজু মজুমদার পরিচালিত ‘ফণীবাবু ভাইরাল’। মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়

‘বাধ্য হয়ে আমাকে ভাঁড়ামো করতে হয়েছে’
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুক্তির অপেক্ষায় পরিচালক রাজু মজুমদার পরিচালিত ‘ফণীবাবু ভাইরাল’। মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

ফণীবাবু কেমন মানুষ?
খিটখিটে। খুঁতখুঁতে। কিপটে বুড়ো। সুখ-দুঃখ, রোগ-ব্যাধির সঙ্গে একজন অল্পবয়সি বউও আছে। ফলে বুড়োর রোম্যান্সও আছে। যক্ষের ধনের মত বিষয় সম্পত্তি আগলে বসে আছে। এহেন বিরক্তিকর বুড়োর মৃত্যু কামনা করে সকলে। কিন্তু বুড়ো মরে না। 
‘ফণীবাবু ভাইরাল’ কি আদ্যোপান্ত কমেডি ছবি?
আলবাৎ। বহুদিন পর এই রকম সুস্থ রুচির একটা কমেডি ছবিতে অভিনয় করে দারুণ আনন্দ পেলাম। নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষ এই ছবিটা দেখলে প্রাণ খুলে হাসতে পারবেন। হারানো মজাটা ফিরে পাবেন। আমি তো আছিই। সঙ্গে খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক আছেন। পরিচালক নিজে একজন ভালো কমেডি অ্যাক্টর। 
বাংলায় বিশুদ্ধ কমেডি ছবি কীসের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে?
চিত্রনাট্যের বড় অভাব। যিনি কমেডি ছবির চিত্রনাট্য লিখবেন, তাঁর রসবোধটা থাকা দরকার। একইসঙ্গে অভাব রসিক পরিচালকেরও। তাই বলে চটুল রস নয়, বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ থাকতে হবে। যেটা অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদারদের মধ্যে ছিল। এখনকার বাংলা সিনেমা, থিয়েটারে চটুল রসের রমরমা। অশ্লীল শব্দের প্রয়োগ। এতে তাৎক্ষণিক মজা পাওয়া যেতে পারে, মন ভালো হয় না। আমি এর ঘোরতর বিরোধী।
কিন্তু আপনিও তো চটুল সংলাপ আওড়েছেন... 
আমি কোনও ‘ভালগার’ সংলাপ বলিনি। ওই যে বললাম, ভালো চিত্রনাট্য, সংলাপের বড় অভাব। আমাকে নেওয়া হচ্ছে কমেডি করব বলে। দর্শকদের হাসাব বলে। অথচ চিত্রনাট্যই দুর্বল। সংলাপ এমন, মানুষ শুনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হাসবেন না। তখন বাধ্য হয়ে আমাকে ভাঁড়ামো করতে হয়েছে। রুটিরুজির চিন্তা তো আমাকেও করতে হবে। 
বাংলা ছবির জগৎ আপনাকে কমেডিয়ান বলে দাগিয়ে দিয়েছে। এটা কি কষ্টের?
না। কোনো কষ্ট বা দুঃখ নেই। সেটাই তো আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে। ভাত-কাপড় জুগিয়েছে। গ্রাম বাংলা আমায় কমেডিয়ান হিসেবে চেনে। এটা তো একপ্রকার আশীর্বাদ। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘মহালয়া’ আমাকে ভিন্ন পরিচিতি দিয়েছে। এই ধরনের ছবি আরও বেশি করে পেলে নিঃসন্দেহে আরো ভালো লাগত। করতে চাইবও। তাই বলে মেইনস্ট্রিম কমার্শিয়াল ছবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে নয়। 
এই দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কখনও কমেডি ছবি পরিচালনার ইচ্ছে হয় না?
হ্যাঁ... প্রবলভাবে। যদি করি, ছোটদের জন্য ছবি তৈরি করব। এখন তো বাচ্চাদের জন্য তো কোনো ছবিই তৈরি হয় না। 
দর্শকের অভাবে সিনেমাহল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন হল মালিকরা...
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য দুঃখজনক। যে পরিস্থিতিতে এখন বাংলা ছবি তৈরি হচ্ছে, সমস্ত ঘটনাটাই দুঃখজনক বলে আমি মনে করি। এটা কোনো ভাবেই অভিপ্রেত নয়। খুব অ্যালার্মিং একটা সময় এসেছে। যেটা নিয়ে আমাদের সবার ভাবা উচিত। বেশি প্রভাব বিস্তার করে কারো কোনো লাভ হচ্ছে না। সবাইকে সবার মত করে কাজ করতে দেওয়া উচিত। 
ঘুরে দাঁড়ানোর উপায়?
মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি। অবশ্যই কমেডি, হরর কমেডি আর ছোটদের ছবি। 
প্রিয়ব্রত দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ