১৯৯৭ সাল! ইস্ট বেঙ্গল ছেড়ে মোহন বাগানে নাম লিখিয়েছি। অমল দত্ত কোচ। একদিন একান্তে ফর্মেশন বোঝাতে শুরু করলেন অমল দা। বললেন, ‘বাসু, এই হচ্ছে ডায়মন্ড ফর্মেশন। আর তুমি হবে দলের চালিকাশক্তি। ডায়মন্ডের আসল হীরে।’ কোচের আস্থার মর্যাদা রাখতে পেরে আমি গর্বিত। সেবার ফেডারেশন কাপ, কলকাতা লিগে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল মোহন বাগান। দৃষ্টিনন্দন ফুটবলে ময়দানে মরা গাঙে যেন বান এল। তখন তো আমাদের প্র্যাকটিস দেখতেও মাঠে ভিড় জমে যেত। এখন শুনতে পাই কলকাতা লিগের ম্যাচেও গ্যালারি ভরে না। ঐতিহ্যশালী প্রতিযোগিতার উন্মাদনা কমতে দেখে সত্যিই খারাপ লাগে।
ঘরোয়া লিগ আমাদের কাছে স্রেফ টুর্নামেন্ট ছিল না। আসলে তা স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি। টালিগঞ্জের খুবই গরিব পরিবার থেকে আমার উঠে আসা। দারিদ্রতা নিত্যসঙ্গী। দু’বেলা খাবার জোটানোই দুষ্কর। সেই সময় ফুটবলই ছিল শ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন। প্যাশন, প্রফেশন সবকিছুই। বড় দলের জার্সি পরা যে কোনও ফুটবলারের স্বপ্ন। আমিও ব্যতিক্রম নয়। উয়াড়ি, টালিগঞ্জ অগ্রগামী হয়ে ১৯৯৫ সালে ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দিই। আইএফএ শিল্ডে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেক। পরিবর্ত হিসাবে নামার পর আমার পাস থেকেই দু’গোল হয়। এরপর ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্নও সফল হয়। ঘরোয়া ফুটবল না থাকলে কে চিনত বাসুদেব মন্ডলকে? আসলে ময়দানি ফুটবলের মাদকতাই আলাদা। ছোটবেলায় দেখতাম, ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির সামনে বিভিন্ন রুটের বাস থেকে হাজার হাজার ছেলে নামছে। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। তরুণ প্রজন্মের ফুটবলে আকর্ষণ ফেরাতে কলকাতা লিগের জৌলুস ফেরানোটা আবশ্যিক। তাছাড়া ময়দান থেকে লিগের ম্যাচ জেলাতে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। ঘেরা মাঠে ফুটবলের মাহাত্ম্য আলাদা। অতীতে হাবিব, কৃশানু, বিকাশ, সুব্রত ভট্টাচার্যদের মতো তারকাদের দেখতেও অনুরাগীরা ভিড় জমাতেন। সেই দৃশ্য আজকাল কমই চোখে পড়ে। আমার মতে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কমে যাওয়ায় ক্রাউড পুলার কমেছে। পাশাপাশি আইএফএ’কে অনুরোধ ঘরোয়া লিগের ম্যাচ ময়দানে ফেরানো হোক। তাতেই ফুটবলের মঙ্গল। পাশাপাশি, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারকে খেলানো যেতেই পারে। এতে বাকিরাও অনুপ্রাণিত হবে।



