আলভিটো ডি’কুনহা: সালটা ২০০২। সালগাওকর থেকে ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দিয়েছি। কলকাতা লিগের ডার্বির আগের দিন ক্লাবের এক কর্তা আমাদের ডেকেছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের কী বলার জন্য ডেকেছি জানো?’ আমি বলি, ‘ট্রফি জয়ের কথা বলার জন্য’। তাঁর গম্ভীর জবাব, ‘না! ট্রফি নয়, কাল ডার্বি জিততে হবে।’ তখন আমার অবাকই লেগেছিল। সবার তো ট্রফি জেতাই লক্ষ্য থাকে। তারচেয়ে একটা ম্যাচ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়? কিন্তু পরের দিন মাঠে নামতেই ভুল ভাঙল। ডার্বি শুধু একটা ম্যাচ নয়। কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের আবেগ, সম্মান। গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। তাঁদের শব্দব্রহ্মে রীতিমতো কাঁপছে স্টেডিয়াম। আর সেই ম্যাচটা আমরা জিতেওছিলাম। তারপর তো অনেক স্মরণীয় ডার্বি খেলেছি। আর আমি ঘটি-বাঙাল কিছুই নই, গোয়ার ছেলে। তবুও ইস্ট বেঙ্গলকে ভালোবেসে সারাজীবন লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবেই থেকে গিয়েছি। ২০০৪ সালে তো মোহন বাগানের মোটা অঙ্কের অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তবে এখন কলকাতা লিগের বেশিরভাগ ম্যাচে খালি গ্যালারি দেখে একটু কষ্ট হয়। আরে, সিনিয়র, জুনিয়র বাদ দিন— প্রিয় দল ইস্ট বেঙ্গল মাঠে খেলছে। জার্সিটার জন্যই মাঠে আসুন।
অনেকে বলছে, ময়দান থেকে ম্যাচ সরানো বা বিদেশি না খেলানোর কথা বলছে। আমার তো মনে হয় লিগ সঠিকভাবেই চলছে। পরিকাঠামোর দিক থেকে জেলার মাঠগুলি কোনও অংশে কম নয়। যদি সেখানে খেলাই না হয়, এত খরচ করে বানানো কেন! নতুন ফুটবলারও তো তুলতে হবে। সেই স্বার্থে বিদেশি না খেলোনা সঠিক সিদ্ধান্ত। আর প্রথমদিন থেকেই তো কেউ তারকা হয়নি। তবে ফুটবলারদের বলব, মঞ্চটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাও। খেলার বাইরে এখন অনেক বিতর্ক কানে আসে। ভুল পথে না গিয়ে খেলাটায় মন দাও।
কলকাতা লিগ থেকে কত বড় বড় ফুটবলার উঠেছে। আমার ফুটবল কেরিয়ার অবশ্য গোয়াতেই শুরু হয়েছিল। বাবা ও কাকারা গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল স্পোর্টস ক্লাব চালাতেন। মাঝেমধ্যে স্কুল বন্ধ করে সেখানে খেলতে চলে আসতাম। পরে আমি সালগাওকরে যোগ দিই। সেখানে নজর কাড়ার পর ইস্ট বেঙ্গল যোগাযোগ করে। লাল-হলুদ ক্লাবে যখন যোগ দিয়েছিলাম, আমিও বড় তারকা ছিলাম না। ক্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার কেরিয়ারে কোচ সুভাষ ভৌমিকের অবদানও অনেক। এখনও স্মৃতিতে টাটকা আশিয়ান কাপের ফাইনালের আগে কোচ বলেছিলেন, ‘কে প্রতিপক্ষ ভাবার দরকারই নেই। আমরা এখানে জিততে এসেছি। তোমরা নিজেদের খেলা খেলতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে।’ আর কোচের আস্থার মর্যাদাও রেখেছিলাম। ফাইনালে গোলও করি।