নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমি নিজেই আয়ুর্বেদ করি।’ বুধবার একথা বললেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, শারদ্বতবাবু রাজ্যের অন্যতম একজন সিনিয়র রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট। বাংলার অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তনী। এদিন কেন্দ্রীয় আয়ূষ মন্ত্রকের অধীনস্থ সেন্ট্রাল আয়ুর্বেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএআরআই) ও রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন আরোগ্যভারতী যৌথভাবে আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাঁটু-কোমরের ব্যথা, হালকা সর্দি-কাশি, গ্যাস, অম্বল, অ্যাসিড, কোষ্ঠকাঠিন্য—এই কয়েকটি রোগের অব্যর্থ চিকিৎসা রয়েছে আয়ুর্বেদে। আমি নিজেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। পশ্চিমি চিকিৎসায় দীক্ষিত বলে আয়ুর্বেদ করতে পারব না, এমন কথা কি সংবিধানে লেখা আছে?
নিজে অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার হয়ে আয়ুর্বেদের প্রচার করছেন, অথচ সাধারণত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকরাই তো সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন আয়ুর্বেদের। এই প্রশ্নও করা হলে মন্ত্রী বলেন, ডাঃ জে বি রায়ও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা নিয়েছিলেন। তারপর আয়ুর্বেদের অনুশীলন করেন। বহু মানুষ আছেন, যাঁরা দুটি চিকিৎসা বিদ্যারই প্র্যাকটিস করেছেন। চীনে গিয়ে দেখেছি, সেখানকার হাসপাতালে মানুষের কাছে বিকল্প রাখা হয়। তিনি দেশীয় পদ্ধতি গ্রহণ করবেন নাকি বিদেশি চিকিৎসার আশ্রয় নেবেন। এদেশেও তাই করা উচিত।
এদিন সিএআরআই-এর সহকারী অধিকর্তা ও আরোগ্যভারতীর সভাপতি (দক্ষিণবঙ্গ) ডাঃ তুষারকান্তি মণ্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ হবে। বিষ্ণুপুরের সাংসদ ও বিধায়করা জেলার ১২০ বিঘা চিহ্নিত জমিতে এই ইনস্টিটিউট করবার আরজি জানিয়েছেন। প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে মন্ত্রক। এছাড়াও রাজ্যের ৩০টি ব্লকে ১০ বেডের এবং ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, কল্যাণী ও দুবরাজপুর—এই চার জায়গায় ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতাল হবে বলেও জানান তিনি। এদিন পঞ্চায়েত ও ব্লকের চুক্তিভিত্তিক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা ভাতা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং স্থায়ী নতুন পদ সৃষ্টির জোরালো দাবি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে। আরোগ্যভারতীর মহানগর অধ্যক্ষা শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস বলেন, বাঙালি খাওয়া দাওয়ায় আমরা যেকোনো রকমের হস্তক্ষেপের ঘোরতর বিরোধী। আমাদের একটা বক্তব্য, স্বাস্থ্যরক্ষায় শৃঙ্খলা আসুক বাঙালি জীবনে।