সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়: আইএফএ শিল্ড। বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্ট। দীর্ঘ কেরিয়ারে দু’বার এই ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছি। একবার ইস্ট বেঙ্গল, আর একবার ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে। তবে এর মধ্যে অবশ্যই ২০০২ সালের খেতাবকে এগিয়ে রাখব। সেবার ইস্ট বেঙ্গলে বাঙালি ফুটবলারের ভিড়। আমি, চন্দন, ষষ্ঠী, শঙ্করলাল, শুভাশিস, সৌমিত্রসহ আরও অনেকে। কোচ নায়িমদা। ফাইনালে প্রতিপক্ষ গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য শেষ হয় ম্যাচ। এমনকী, অতিরিক্ত সময়েও স্কোরলাইনে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে খেলা গড়ায় টাই-ব্রেকারে।
আজও মনে আছে, পেনাল্টি শ্যুট-আউটের আগে কোচ আমায় বলেছিলেন, ‘গোটা বাংলা তোমার দিকে তাকিয়ে। শিল্ড যেন বাংলাতেই থাকে।’ আমি মনে মনে পণ করেছিলাম, চার্চিলকে শিল্ড নিয়ে ফিরতে দেব না। তবে টাই-ব্রেকারের প্রথম শট মিস করে মুসা। যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন শ্মশানের নীরবতা। এরপর একে একে জাল কাঁপায় চন্দন, কুলুথুঙ্গন, কৌস্তুভ, ডগলাস আর ষষ্ঠী। চার্চিলের শেষ দু’টি শট সেভ করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করি। দীর্ঘ ২৩ বছর আগের কথা। তাই কোন সেভটা সেরা তা বলতে পারব না। তবে এতটুকু বলতে পারি, সেদিন দল হিসেবে আমরা দুরন্ত ফুটবল মেলে ধরেছিলাম। সামনে আরও এক আইএফএ শিল্ড ফাইনাল খেলতে নামছে ইস্ট বেঙ্গল। এবার প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগান। ফলে লড়াইটা আরও কঠিন। তাছাড়া গত কয়েক বছর ব্যর্থতাই সঙ্গী লাল-হলুদ ব্রিগেডের। তাই এবার শিল্ড জিতে অবশ্যই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চাইবেন কোচ অস্কার।