সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: কাঁধ পর্যন্ত ঝাঁকড়া চুল। শট যেন কামানের গোলা। ২৮ বছর আগে যা আছড়ে পড়েছিল লাল-হলুদ দুর্গে। ব্রুনো কুটিনহোই শেষ করে দিয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে ইস্ট বেঙ্গলের ফেডারেশন কাপ জয়ের স্বপ্ন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু খেতাবি লড়াইয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজারের গমগমে যুবভারতীর সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন ব্রুনো কুটিনহো। তাঁর জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন সালগাওকর। সেই স্মৃতি আজও তাঁর হৃদয়ে অমলিন। বাম্বোলিম স্টেডিয়ামে স্পোর্টস অথরিটি অব গোয়ায় নিজের অফিসে বসে সাক্ষাৎকার দিলেন প্রাক্তন তারকা।
প্রশ্ন: দীর্ঘক্ষণ মিটিংয়ে আটকে ছিলেন। বুটজোড়া তুলে রাখার পরও ব্যস্ততা কমেনি দেখছি!
ব্রুনো: অবসর কোথায়! ফুটবল ছাড়ার পর অফিসের কাজে ডুবে রয়েছি। এখন স্পোর্টস অথরিটি অব গোয়ার ডিরেক্টর অব কোচিংয়ের দায়িত্বে।
প্রশ্ন: ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ ফাইনালে আপনার দু’টি গোল নিয়ে এখনও চর্চা হয়। কী বলবেন সেই ম্যাচ নিয়ে?
ব্রুনো: সেই ফাইনালের কথা কীভাবে ভুলতে পারি! আমার কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ। মনে আছে, ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের ইন্টারভিউয়ার আমায় জিজ্ঞাসা করে, ‘কে জিতবে ম্যাচটা?’ আমার ঝটপট জবাব, সালগাওকর। পরের প্রশ্ন, ‘গোল কে করবে?’ হেসে বলি, ব্রুনো কুটিনহো। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছিল।
প্রশ্ন: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে নিশ্চুপ করিয়ে দেওয়ার অনুভূতিটা কেমন ছিল?
ব্রুনো: ম্যাচের পর শুনলাম, ১ লক্ষ ২০ হাজার দর্শক ছিল মাঠে! সেদিন খাতায়-কলমে ইস্ট বেঙ্গলই ফেভারিট । তারা ডায়মন্ড ম্যাচে মোহন বাগানকে হারিয়েছিল। ফাইনালে আমি প্রথম গোলটি যখন করলাম, মাঠে পিন ড্রপ সাইলেন্স। খেলা শেষের কিছুক্ষণ আগে ইস্ট বেঙ্গল সমতা ফেরায়। জেগে ওঠে ভরা গ্যালারি। সে কী গর্জন! অবশ্য তা দ্রুত থামিয়ে দিয়েছিলাম সংযোজিত সময়ের গোলে। প্রথমটার চেয়েও সুন্দর। সে এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি!
প্রশ্ন: ফেডারেশন কাপ ফাইনালের পর আপনার কেরিয়ারে কী কী পরিবর্তন আসে?
ব্রুনো: কোনও সন্দেহ নেই, পরবর্তীকালে অনেক বেশি স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আমার কেরিয়ারে আরও অনেক স্পেশাল মুহূর্ত আছে। বিশেষ করে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া। আজ আমি যা কিছু তা ফুটবলের জন্যই।
প্রশ্ন: আপনি অর্জুন পুরস্কারেও ভূষিত! সেই অনুভূতিটা কেমন?
ব্রুনো: এপিজে আব্দুল কালামের হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলাম। বড় ব্যাপার তো অবশ্যই। মনে হয়েছিল, এতদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।
প্রশ্ন: বাইচুং ভুটিয়া, সুনীল ছেত্রীর পর ভারতীয় দলে স্ট্রাইকার উঠছে না কেন?
ব্রুনো: কীভাবে উঠবে? আইএসএলে ভারতীয় স্ট্রাইকাররা সেভাবে সুযোগ পায় না। তাছাড়া ভারতীয় খেলোয়াড়দেরও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। ৫০-৫০ সুযোগকেও কাজে লাগানো জরুরি। সেখানে অনেক সময় দেখি, ফাঁকা জালেও বল ঠেলতে পারছে না।
প্রশ্ন: ভারতীয় ফুটবলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কতটা চিন্তিত?
ব্রুনো: র্যাঙ্কিং১৪১। এখন আর ভারতীয় ফুটবল দেখতে ইচ্ছা করে না। শুনলাম, আইএসএল ফেডারেশনই চালাবে। এটা ভালো। তবে লিগে প্রমোশন ও রেলিগেশন জরুরি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া ফুটবল হয় না।