নিউ জার্সি: ‘নরওয়েকে সামলাতে আপনি কতটা তৈরি?’ তরুণ সাংবাদিকের প্রশ্নে মুচকি হেসেছিলেন ডন কার্লো। সেটাই স্বাভাবিক। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে হালান্ডদের লড়াই তখনও বাকি। বুদ্ধিমান ব্রাজিল কোচের মন্তব্য ছিল, ‘আইভরি কোস্টকে সম্মান করি। ম্যাচের পর না হয় বাকি আলোচনা হবে।’ আনসেলোত্তি এই প্রশ্ন মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে এড়িয়ে যেতে পারতেন। তার বদলে প্রতিপক্ষকে সম্মানের কথা বললেন ইতালিয়ান কোচ। এটাই আনসেলোত্তির বিশেষত্ব। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের সামনাসামনি হওয়ার আগেও স্টান্স বদলাননি তিনি। হালান্ডের মতো তারকা বিপক্ষের সেরা অস্ত্র। এক্ষেত্রে ব্রজিল কোচের বিশ্লেষণ, ‘এই মুহূর্তে হালান্ড বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার।’
বাইরের মোড়ক খুললে অবশ্য ডন কার্লোর ইস্পাতকঠিন মানসিকতার দেখা মিলবে। শত বিপর্যয়েও ঘাবড়ান না তিনি। চিউইংগাম চিবিয়ে চলেন উদাসীনভাবে। ড্রেসিং-রুমের পালস তাঁর চেয়ে ভালো কে-ই বা বোঝে। এই কার্লোই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা। সামর্থ্য অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে যার বিকল্প নেই।
দীর্ঘ কোচিং কেরিয়ার আনসেলোত্তির। ট্রফি ক্যাবিনেট টইটম্বুর। সমালোচকদের মাথায় চড়তে দিতে নারাজ তিনি। তঁর
আমলে ব্রাজিল অনেক অংক কষে খেলছে। তাই জোগো বোনিতো খুঁজতে যাওয়া বৃথা। এতে অনেকেই বিরক্ত। আনসেলোত্তির জবাব, ‘মনে রাখা উচিত, অভিজ্ঞতার বিচারে একমাত্র স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনই আমার চেয়ে এগিয়ে। আমি জিনিয়াস নই। কিন্তু বোকা ভাবাও অনুচিত।’ চোখা জবাবে বাকিরা চুপ। নরওয়ে কোচ অবশ্য রসিকতার মেজাজে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। সোলবাকেনের মন্তব্য, ‘কার্লো। আমরা আসছি। তৈরি হও।’ ব্রাজিল কোচ কোনো জবাব দেননি। হয়তো উত্তর দেওয়ার জন্য নিউ জার্সি স্টেডিয়ামকেই বেছে নেবে তাঁর ব্রাজিল। প্রতিপক্ষকে বশ মানানোর ট্যাকটিক্স অনেকের চেয়েই ভালো জানেন ডন কার্লো।