Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পণ করেছিলাম, জিততে দেব না আরারাতকে

‘কাম অন বিদেশ। ওয়ার্ম-আপ শুরু করো।’ প্রদীপদার নির্দেশ পেতেই বুটজোড়া পায়ে গলিয়ে নিলাম

পণ করেছিলাম, জিততে দেব না আরারাতকে
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

বিদেশ বসু: ‘কাম অন বিদেশ। ওয়ার্ম-আপ শুরু করো।’ প্রদীপদার নির্দেশ পেতেই বুটজোড়া পায়ে গলিয়ে নিলাম। কালো মেঘে ঢাকা আকাশের মতোই কোচের মুখে উদ্বেগ। গ্যালারির কয়েক হাজার মোহন বাগান সমর্থকও চিন্তিত। ১৯৭৮ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। শক্তিশালী আরারাতের বিরুদ্ধে তখন ০-১ গোলে পিছিয়ে মোহন বাগান। রাশিয়ার ক্লাবটি বৃষ্টিভেজা, পিচ্ছিল মাঠেও দাপিয়ে ঩বেড়াচ্ছে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি বল থ্রো হতেই বাবলুদার গলা কানে এল। হাত নেড়ে চিৎকার করছে। ‘প্রদীপদা, জলদি নামান বিদেশকে।’ মুহূর্তে শিরদাঁড়া টানটান। রক্তে শিহরণ। ঘরের মাঠে মোহন বাগান হারছে! স্ট্রেচিংয়ের ফাঁকেই শপথ নিলাম, ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। আরারাতকে জিততে দেব না।

Advertisement

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্লাব আরারাত। তাক লাগানো পাসিং, গতি। প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুতে একটু রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটজি নিয়েছিলেন পিকে ব্যানার্জি। পাঁচ ডিফেন্ডারে দল সাজান তিনি। ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাই হোক, কম্পটন দত্তের পরিবর্তে মাঠে নামি। সেদিন বিদেশ বসুর পারফরম্যান্স বিচারের ভার মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের। তবে এটুকু মনে আছে, আরারাতের রাইট উইং ব্যাক ওভারল্যাপে আসার সাহস পায়নি। বরং গতিতে ওকে টপকানোর মুখে হাত দিয়ে টেনে ধরেছিল প্যান্ট। মাঠেই তোয়ালে জড়িয়ে সেই ছিঁড়ে যাওয়া শর্টস বদলাতে হয়। যাই হোক, আমার সেন্টার থেকেই জাল কাঁপায় হাবিবদা ও মানস। পিছিয়ে থাকা মোহন বাগান ২-১ গোলে লিড নিয়েছিল। তবে অন্তিম মুহূর্তে দুর্দান্ত সাইড ভলিতে ২-২ করেন আরারাতের এক ফুটবলার। যুগ্মভাবে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয় মোহন বাগান। মাঠ থেকে সমর্থকদের কাঁধে চেপে তাঁবুতে পৌঁছই। বিদেশি দলের বিরুদ্ধে মোহন বাগানের লড়াই সেদিন বিশেষজ্ঞদের মুগ্ধ করেছিল। সেই দলের অন্যতম সৈনিক হিসাবে আমি গর্বিত। একইসঙ্গে আশাবাদী এবারের শিল্ডও মোলিনা-ব্রিগেড ঘরে তুলবে। দিমিত্রি, শুভাশিসদের জন্য রইল অফুরান শুভেচ্ছা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ