ওয়াশিংটন: ড্রাগন-হাতি-ভালুকের নৃত্যে প্রমাদ গুনছে আমেরিকা! ভারত-চীন-রাশিয়ার বন্ধুত্বের ছবিতে আক্ষরিক অর্থেই মাথায় হাত ওয়াশিংটনের। শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক এবিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাখঢাক না করেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের আক্ষেপ, ‘কুটিল ও অন্ধকারতম চীনের কাছে আমরা ভারত ও রাশিয়াকে হাতছাড়া করে ফেললাম বলেই মনে হচ্ছে।’ তবে নবতম এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তিন দেশের একত্রে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি।’ তবে ভারত-রাশিয়া-চীনের এই সখ্যে তিনি যে বিচলিত, তা আর গোপন রইল না।
সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের আতিথেয়তায় এসসিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের তিয়ানজিনে ওই সম্মেলনই একত্রে জিনপিং-মোদি-পুতিনের ছবিতে আমেরিকার মাথায় বাজ পড়েছে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে তিন নেতার এই ‘বন্ধুত্ব’ নয়া রাজনৈতিক অক্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবিষয়ে একাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞের কণ্ঠে ইতিমধ্যেই উদ্বেগের সুর সামনে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, ভারত-রাশিয়া-চীনের মধ্যে এই সখ্যের ইঙ্গিত আমেরিকার মেরুদণ্ডে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাওয়ার শামিল। আর এবার উদ্বেগ গোপন করতে পারলেন না স্বয়ং ট্রাম্প। রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হাতছাড়া করে ফেলা নিয়ে আক্ষেপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় বহু দশক ধরেই ভারতকে সম্ভাব্য ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে আমেরিকা। ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন প্রাণপাত করেছে মার্কিন প্রশাসন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— আমেরিকার উভয় দলের শাসনেই সেই প্রচেষ্টা জারি ছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফায় ট্রাম্প নিজেও সেই পথেই হেঁটেছেন। ২০১৯ সালে মার্কিন মুলুকের হিউস্টনে ‘দোস্তি’র বার্তা হিসেবে ‘হাউডি মোদি’র আসর দেখেছে গোটা বিশ্ব। আবার তার ঠিক পরের বছরই ভারত সফরে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তায় আমেদাবাদে ‘নমস্তে ট্রাম্প’-এর আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বন্ধুত্বের বার্তা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে পাশে নিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন ট্রাম্প। আর এই পদক্ষেপেরও মোদ্দা লক্ষ্য ছিল ভারতকে কাছে টেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলা করা। কিন্তু সেই সুসম্পর্কে হঠাৎ করেই চিড় ধরিয়েছে চড়া হারে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত। রুশ তেল কেনার ইস্যুতে ভারতের উপর তাঁর চাপ বাড়ানোর কৌশল আদতে হিতে বিপরীত হল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারত-রাশিয়া-চীনের এই নয়া অক্ষের ইঙ্গিতে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টও যে বিচলিত, তাঁর নয়া এই পোস্টই সেকথা বলে দিচ্ছে।