Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

কিছু অভিমান এখনও ভাঙাতে পারিনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিমান নিয়ে কথা বললেন। নতুন সিনেমা 'অভিমান'-এর মুক্তির আগে তার অনুভূতি জানালেন। বিস্তারিত পড়ুন।

কিছু অভিমান এখনও ভাঙাতে পারিনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুক্তির অপেক্ষায় ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘অভিমান’। জীবনের নানা ‘মান-অভিমান’ নিয়ে আড্ডা দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

 টেনশনে আছেন?
 (হাসি) জানেনই তো, ছবি রিলিজের আগে টেনশন হয়ই। 

 প্রযোজকরা একেবারে নতুন তো?
 হ্যাঁ, যিশু (সেনগুপ্ত) এবং সৌরভের (দাশ) প্রথম প্রযোজনা। ওরা দু’জনেই আমার ঘরের ছেলে। আমাদের এখানকার যারা অভিনেতা, তারা সিরিয়াসলি প্রযোজনায় ঢুকছে, এটা খুব ভালো। প্রযোজনা করা মানে শুধু সিনেমায় টাকা লগ্নি নয়। সিনেমা বুঝতে হবে, জানতে হবে, ভালোবাসতে হবে। 

 বাস্তবের মেগাস্টার, সুপারস্টার— এই ছবিতে আপনি ‘রকস্টার’... বয়স কমালেন কীভাবে? 
 হা হা..। আমরা বয়স কত? ২৫-২৬ হবে (হাসি)। সকলের আশীর্বাদে আমার এনার্জি লেভেল ওটাই। গল্পটা শোনার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। এখানে আমার দুটো বয়স। দুটো আলাদা সময়। আমি অঞ্জন দত্ত, নচিকেতাকে দেখেছি। সেখান থেকে আজকের রূপম ইসলাম। আমি রূপমকে বলেওছি, তোকে কপি করছি...। এই দুটো সময়কে মেলানোর চেষ্টা করেছি। 

 আপনি রক মিউজিক পছন্দ করেন?
 অফকোর্স।

 মিউজিকের কোন ঘরানা বেশি পছন্দ?
 আমি জিম করতে করতেও যেটা শুনি সেটা অন্য কেউ শোনে না, রবীন্দ্রসঙ্গীত...। হেমন্ত (মুখোপাধ্যায়) জেঠু, শ্যামল মিত্র শুনি। মুকেশজি, কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি শুনি। গজল ভালোবাসি। অঞ্জন, নচিকেতার গান আমার প্লেলিস্টে থাকে। 

 রকস্টারের চরিত্র পেতে এতটা সময় লাগল কেন?
 এর আগে দু-একবার এমন চরিত্র এসছে। কিন্তু কোনো কারণে ছবিগুলো হয়নি। আমি এখন তীর্থের কাকের মতো যে চরিত্র করিনি, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। 

 এমন চরিত্র খোঁজেন, যা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলবে?
 আমি এমন চরিত্র খুঁজি, যার ছ’টায় কলটাইম থাকলে আমি চারটেয় উঠে পড়ব। তাড়াতাড়ি মেকআপ রুমে গিয়ে তৈরি হয়ে নেব। দু’ঘণ্টা পরে ডাকুক সেটে, তাতে অসুবিধে নেই। কিন্তু চরিত্রটার সঙ্গে থাকব। চরিত্র নিয়ে ভালো লাগা আর ভয় পাওয়া যেন একসঙ্গে থাকে।

 কোনটা ভয়? কোনটা ভালো লাগা?
 আমি পারব তো? এটা ভয়। আর ভালো লাগাটা হল, যে অনুভূতিটা এনজয় করি।
 আপনার অভিমান হয়?
 অভিমান তো থাকেই। আমার ওপরও অনেকের অভিমান হয়। অভিমান ভাঙানোটাও খুব মিষ্টি। অভিমান কিন্তু রাগ নয়। 

 অভিমান হলে বলে ফেলতে পারেন?
 অভিমান যদি চট করে বলে ফেলা যায়, তাহলে সেটা আর অভিমান নয়। অভিমান কিন্তু বহন করতে হয়। এর পিছনে বড়ো শব্দ আছে, সময়। সময় অনেক কিছু বদলে দেয়। এটাই তো জীবন। 

 কোনো অভিমান ভাঙানো হয়নি বলে আপশোস রয়েছে?
 অনেক...। যদিও ধীরে ধীরে সংখ্যাটা কমছে। এখনও কিছু অভিমান ভাঙাতে পারিনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। সেগুলো বলতে পারব না (হাসি)।

 ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অভিমান?
 কখনো কখনো হয়। আজ থেকে ১৫ বছর আগে যে অভিমান হতো, তার ধরন আলাদা ছিল। সেটা অন্যভাবে ক্যারি করতাম। আজ আমার চারপাশটা যেমন, সেখানে অভিমান বেশিদিন ধরে রাখি না। কারণ আমি মনে করি, এখন আমাকে এফর্ট দিতে হবে। যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা ভালোবাসে বলেই অভিমান করে। তাই অভিমান ভাঙানোটা আমার দায়িত্ব। 

 বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এখন যাবতীয় অভিমান তো সব সোশ্যাল মিডিয়ায়?
 এটা একটা পর্যায়। কেটে যাবে। দেখুন, সিনেমা একটা স্বপ্ন। আমরা স্বপ্ন বিক্রি করি। মানুষ স্ক্রিনের ম্যাজিক দেখতে আসেন। দায়িত্ব নিয়ে এই ম্যাজিকটা ধরে রাখতে হবে। 

 নতুন সরকারের কাছে ইন্ডাস্ট্রির জন্য কী প্রত্যাশা?
 আমাদের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। এটা সরকারের কাজ নয়, কাজটা আমরাই করব। সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নেব, যেমন আর পাঁচটা কর্পোরেট নেয়।

 পদ্মশ্রী প্রাপ্তি আপনাকে কতটা বদলে দিল?  
 সত্যি বলতে, আমার ছেলে সেদিন কেঁদে ফেলেছিল। ওকে ডেকে বলেছিলাম, পদ্মশ্রীর পরে যে ছবিটা করব, সেটা হবে জীবনের প্রথম ছবি। আর আমার বাবা ওকে বলেছেন, চট্টোপাধ্যায় পরিবারে এত বড়ো একটা সম্মান এসেছে। তোমার দায়িত্ব কিন্তু আরও বেড়ে গেল। 
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ