নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিতর্কের সূত্রপাত ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার পুজোর আগে প্রিভিউ পাসে ইউনেস্কোর লোগো লাগানোকে ঘিরে। যে সংস্থার সঙ্গে নাম জড়ায় রাজ্যের প্রাক্তণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী-র। সরকারী আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘মাস আর্ট’-র সঙ্গে ইউনেস্কোর চুক্তি ২০২৫ সাল থেকে। কিন্তু তদন্তে দেখা যাচ্ছে ২০২২ থেকে টাকা তোলা শুরু হয়েছিল। যেখানে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই বেআইনি পাস বিক্রির সঙ্গে নাম জড়ায় ইন্দ্রনীল সেনেরও। যদিও সেই অভিযোগ মানেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। গতকাল প্রায় ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সাওয়াল জবাব শেষে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।
সরকারি আইনজীবী বলেন, এই মামলাটি প্রতারণা এবং জালিয়াতি সংক্রান্ত। ২০২৫ সালে এই চুক্তি হলেও ২০২২ থেকে টাকা তোলা হয়। ‘মাস আর্ট-র প্রেসিডেন্ট ধৃত মন্ত্রীর স্ত্রী। তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে এই সংস্থার এবং যেদিন সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়, সেদিনেই ইন্দ্রনীলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। এছাড়াও সরকারি আইনজীবী বলেন, যখন এই অপরাধ হয়েছে তখন ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী ছিলেন। সব টেন্ডার ওনার মাধ্যমেই হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার জানান টেন্ডারেও গরমিল আছে। জামিনেও তীব্র আপত্তি জানান সরকারি আইনজীবী।
ইন্দ্রনীলের আইনজীবী কোর্টে জানান, তাঁর মক্কেল প্রথম থেকেই সহযোগিতা করেছেন, পালানোর চেষ্টা করেননি। এছাড়াও তিনি আরও দাবি করেন, আমার মক্কেল এই সংস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। কোনো পদে নেই। ইন্দ্রনীল বলেন,পাস বিক্রির দায়িত্বে একটি বেসরকারি সংস্থা ছিল। আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাস বিক্রর নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ইডি তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করে। এছাড়াও তল্লাশি চালানো হয় তাঁর বাড়িতে। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো মিটতেই ফের তলব করা হয় বুধবার, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।



