সংবাদদাতা, বনগাঁ: বৃহস্পতিবার বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী। তাঁর কাছে ইছামতী নদী সংস্কার করার দাবি জানান বাসিন্দারা। সকালে গাইঘাটা ব্লকের রামনগর পঞ্চায়েতে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। ত্রাণ শিবির গুলিতে যান। কথা বলেন বাসিন্দাদের সঙ্গে।
গাইঘাটা ব্লকের রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিলচাতুরিয়া ত্রাণশিবিরে যাওয়ার সময় তেঁতুলবেড়িয়ায় রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন মহিলারা। জেলাশাসক গাড়ি থেকে নামতেই হাত জোর করে ইছামতী নদী সংস্কার করার দাবি জানান মহিলারা। তাঁরা বলেন, ‘স্যার আমরা কোনও সাহায্য চাই না। ইছামতী নদী সংস্কার করে দিন।’ স্থানীয় বাসিন্দা অর্চনা ঘোষ বলেন, ‘আমরা নদীর কারণে প্রতিবছর জলে ডুবে যায়। ফসল নষ্ট হয়। জেলাশাসকের কাছে বলেছি, আমাদের কিছু চাই না। শুধু নদী সংস্কার করে দিন।’ জেলাশাসক বাসিন্দাদের কথা শুনেছেন। তিনি কথা দিয়েছেন অন্য জায়গায় নদী সংস্কার শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত এখানেও কাজ শুরু হবে।
বনগাঁ মহকুমায় বনগাঁ, বাগদা ও গাইঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। ইছামতী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পঞ্চায়েত গুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ ও গাইঘাটা ব্লকে ৬টি করে ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বনগাঁ ব্লকে ৬৪০ জনকে শিবিরে আনা হয়েছে। গাইঘাটাতেও ৬০০ জনকে ত্রাণ শিবিরে তোলা হয়েছে। ত্রাণ শিবিরে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বনগাঁর মহকুমা শাসক ঊর্মি দে বিশ্বাস বলেন, ‘জেলাশাসক এসেছেন। গাইঘাটা ব্লকের জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। বাসিন্দারা নদী সংস্কার করার কথা বলেছেন। নদী সংস্কারের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। কাজ শুরু হবে।’