নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাতবিরেতে বাড়িতে ঢুকেছিল অনাহুত ‘অতিথি’। বাসিন্দাদের সচেতনতায় তার উপস্থিতি অবশ্য গোপন থাকেনি। একপ্রস্থ ‘খাতির যত্ন’ করার পরে তার মুখ থেকে বের হল এক ‘বাণী’। বাড়ির কর্তাকে ‘কাকা’ সম্বোধন করে আন্তরিক সুরে সে বলে, ‘সব সময় চুরি করি না, বিশ্বাস করো। আমি ঢালাই থেকে রং, সব কাজ জানি। পুজো মরশুমে একটু চুরি করি। এদিন একটু নেশা হয়েছিল। তাই বন্ধুদের কথায় ঢুকে পড়েছিলাম।’ পাণ্ডুয়ার খন্যান সাতপুকুরের বিশ্বাস বাড়ির সদস্য থেকে প্রতিবেশীরা তখন হাসবেন না কাঁদবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ঘটনা সোমবার রাতের ঘটনা। চোর বাবাজিকে অবশ্য শেষপর্যন্ত ‘কাকা’র বাড়ি থেকে ‘মামা’র বাড়িতে যেতে হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার চোরের বয়ান হাস্যরস ছড়িয়েছে গোটা খন্যানে।
পাণ্ডুয়া পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবকের প্রকৃত পরিচয় জানার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। বিশ্বাস বাড়ির প্রতিবেশী জ্যোতির্ময় মণ্ডল বলেন, বেচারা মদ ও গাঁজা খেয়েছিল। আমরা পরিকল্পনা করেই ওকে ধরেছিলাম। তারপর তাকে বেঁধে রাখি। কিন্তু সে যেভাবে পরিবারের কোনও সদস্যের মতো করে নিজের কষ্টের কথা, আক্ষেপের কথা বলছিল, তাতে হাসি চাপা যায়নি।
বিশ্বাস পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত তখন ১১টা হবে। বাড়িতে কেউ ঢুকে পড়েছে বুঝতে পারেন সদস্যরা। তারপরেই প্রতিবেশীদের ডেকে চলে অভিযান। তাতেই ধরা পড়ে যায় বছর পঁচিশের শ্যামলা রঙের মূর্তিমান। খানিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে বাড়ির লোকজন বুঝতে পারে, ওই যুবক মদ ও গাঁজার নেশায় চুর হয়ে আছে। সেই নেশার জেরেই মাথায় চুরির কথা ঢুকেছে। তবে তার সরস বয়ানের কারণে যে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকা যায়নি, তা মানছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ফলে, শীতের রাতে চুরিতে সাফল্য না পেলেও পিঠ বেঁচেছে চোরবাবাজির। নিজস্ব চিত্র