চরিত্রের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। গভীর প্রেমের ছবি ‘ধড়ক ২’ মুক্তি পেয়েছে সদ্য। সেই জার্নির কথা শেয়ার করলেন নায়িকা।
চরিত্রের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। গভীর প্রেমের ছবি ‘ধড়ক ২’ মুক্তি পেয়েছে সদ্য। সেই জার্নির কথা শেয়ার করলেন নায়িকা।
কেরিয়ার শুরু রোমান্টিক ছবি ‘লায়লা মজনু’ দিয়ে। আবার প্রেমের ছবিতে আপনি। একইরকম অফার আসছে?
যে ধরনের চরিত্র আমি বেছে নিচ্ছি, তাতে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের উত্তরণ দেখতে পাচ্ছি। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন অনেক কিছু এখন বুঝতে পারছি, যা আগে পারতাম না। অনেক ভুল করেছি। সময়ের সঙ্গে তা শুধরে নিয়েছি। আসলে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই।
সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গে আপনার রসায়নের নেপথ্য প্রস্তুতি কী ছিল?
পরিচালক শাজিয়া ইকবাল আমাদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন। উনি চেয়েছিলেন বাস্তবে আমি আর সিদ্ধান্ত যেন একে অপরকে ভালো ভাবে চিনতে পারি। শুধু তাই নয়, আমরা একে অপরকে যেন গভীর ভাবে অনুভব করতে পারি। কারণ এটা প্রেমের গল্প। তাই পর্দায় রসায়ন খুব ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল। আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়াও জরুরি ছিল। কলেজ পড়ুয়াদের মতো আমরা একসঙ্গে বসে গেম খেলতাম, আড্ডা দিতাম। ফলে আমরা একে অপরের জীবনের অনেক কিছু জেনেছি। আমাদের সম্পর্কটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।
শ্যুটিংয়ের সময় বাস্তবের কলেজ রোমান্সের কোনও স্মৃতি মনে পড়েছিল?
কলেজের অনেক স্মৃতি আছে, তবে রোমান্স নিয়ে কিছু মনে পড়েনি। আসলে আমি খুবই অন্তর্মুখী ছিলাম। কলেজের মিউজিক সোসাইটিতে ছিলাম। কলেজ ফেস্টিভালে আমরা অংশগ্রহণ করতাম। এইসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। তবে যেখানে থাকতাম, সেখানকার একটা ছেলের প্রতি আমার ক্রাশ ছিল (লাজুক হেসে)।
‘ধড়ক ২’ ছবির গল্প জাতপাত, বর্ণবিদ্বেষকে ঘিরে তৈরি। আপনি এবিষয়ে কতটা জানতেন?
একটা ছবি মানুষকে নানান ভাবে সমৃদ্ধ করে, শিক্ষিত করে তোলে। এই ছবিটা করার আগে পর্যন্ত আমি ভাবতাম যে আমি অনেক কিছু জানি। কিন্তু ছবিটা করার সময় আমি উপলব্ধি করি যে আমাদের দেশে অনেক কিছু ঘটছে, যার সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই। আমরা জানতেও পারি না যে অন্য একটা মানুষের উপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে চলেছে। আমরা অনেক সময় নানা কারণে অসংবেদনশীল হয়ে পড়ি। অন্যের প্রতি অন্যায় দেখেও আমরা চোখ বুজে থাকি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর এই ছবিটা। ছবির মাধ্যমে আমরা যদি কিছু মানুষের মানসিকতায় বদল আনতে পারি, তাহলেই আমরা সফল।
আপনার চরিত্র ‘বিধি’ প্রগতিশীল, লড়াকু। ‘বিধি’ আপনাকে কতটা বদলেছে?
বাস্তবে আমি শান্ত প্রকৃতির। কোনও কিছুতে জড়াই না। তবে এই চরিত্রটা বাস্তবে আমাকে সাহসী করে তুলেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস যুগিয়েছে চরিত্রটা।
কারও বায়োপিকে নিজেকে দেখতে চান?
মীনা কুমারী। এই চরিত্রে সুযোগ পেলে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করব।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই