সাইনুল মহম্মদ (মেখলিগঞ্জের ভোটবাড়ির বাসিন্দা): রবিবার সবকিছু এত হঠাৎ ঘটেছিল, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ফুন্টশোলিংয়ে আমচু নদীতে নামার পর কানে আসছিল জলের প্রচণ্ড গর্জন। ট্রাকের কেবিনে বসে হঠাত্ দেখি বিপুল জল নেমে আসছে আমার দিকে। মুহূর্তে জল এসে ধাক্কা মেরে ট্রাকের উপর দিয়ে বইতে শুরু করল। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে লাফিয়ে উঠে পড়লাম ট্রাকের ছাদে। চারিদিকে শুধু জল আর জল। আমি একা আটকে পড়েছি নদীর মধ্যে। হাত, পা কাঁপছিল। পকেট থেকে ফোন বের করে দাদাকে কল করলাম। বললাম, জলের মধ্যে ট্রাকে আটকে পড়েছি। ফোনে মায়ের কান্নাও শুনতে পাচ্ছিলাম। তখন বাঁচার আশা ছেড়ে ওদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। বলছিলাম, ঠিক আছি, কিছু হবে না। অথচ, মনে মনে ভাবছিলাম, এটাই হয়তো শেষ কথা।
ঠিক তখনই কানে এল হেলিকপ্টারের আওয়াজ। মাথার উপর ঘুরতে লাগল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। তবুও মনে হচ্ছিল, হয়তো বাঁচব না। হঠাৎ দেখি, হেলিকপ্টার একদম মাথার উপর এসে থামল। সেনার একজন আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। তাঁর হাত ধরে টেনে তুললাম নিজেকে। জীবনে প্রথমবার হেলিকপ্টারে উঠলাম। সেটাও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার যাত্রা।
আমার সঙ্গে ভুটানের আরও দু’জন আটকে ছিলেন। তাঁদেরও উদ্ধার করে সরাসরি ভুটানের এক হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন এসে পৌঁছন। তখন বুঝলাম, সত্যিই বেঁচে গিয়েছি।
ছয় বছর ধরে ট্রাক চালাচ্ছি। কিন্তু কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। নিজের ট্রাক নিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ চালক অসুস্থ ছিল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ ট্রাক নিয়ে নদীতে নেমেছিলাম। তখন জল একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে নদী ফুলে উঠল। আমার ট্রাক এখনও বালির নিচে চাপা পড়ে আছে। হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এখন থেকে আর আগের মতো সাহস হবে না নদীতে ট্রাক নিয়ে নামতে। মনে পড়লে এখনও গা শিউরে উঠছে।