অমরাবতী: ‘সবই ভগবানের ইচ্ছে। এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়। তাছাড়া আমার নিজের জমিতে মন্দির বানিয়েছি। আমার জমি। আমার মন্দির। পুলিশকে আগে থেকে জানাতে যাব কেন?’ অন্ধ্রপ্রদেশের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক অভিযোগ প্রসঙ্গে রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন মন্দিরের মালিক তথা নির্মাতা হরিমুকুন্দ পান্ডা। আর তা নিয়েই বিতর্ক চরমে। একাংশের কথায়, এতগুলি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ নিজের দোষ ঢাকতে অদ্ভুত সমস্ত যুক্তি খাড়া করছেন ওই বৃদ্ধ।
শনিবার ৯ জনের মৃত্যুতে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, একাদশীতে মন্দিরে ভিড় হবে জেনেও আগে থেকে পুলিশ-প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি মন্দির কর্তৃপক্ষ। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেরাও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। এনিয়েই রবিবার মুখ খুললেন বছর চুরানব্বইয়ের হরিমুকুন্দ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার নিজের জমিতে মন্দির বানিয়েছি। কেন পুলিশকে জানাতে যাব? ভগবান যা চেয়েছেন, তাই হয়েছে। এর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, নির্লিপ্তভাবে জবাব - যত ইচ্ছে মামলা দায়ের করুন। আমার কোনও সমস্যা নেই। বৃদ্ধের কথায়, ‘সাধারণত এমন ভিড় দেখা যায় না। ভক্তরা আসেন, দর্শন করেন ও প্রসাদ নিয়ে চলে যান। আমি কারও কাছে কিছু চাই না। নিজের টাকায় প্রসাদ তৈরি করে বিতরণ করি। কিন্তু গতকাল অত্যধিক ভিড় হয়েছিল।’
পুলিশ-প্রশাসন সূত্রে খবর, মন্দিরে অন্য শনিবার গড়ে হাজার তিনেক ভক্ত আসেন। কিন্তু গতকাল কার্তিক মাসের একাদশীতে ২০ হাজারের বেশি ভক্ত এসেছিলেন। প্রবেশ ও বেরনোর পথ একটাই হওয়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এর জেরেই সিঁড়ির রেলিং ভেঙে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। আপাতত বন্ধ রয়েছে মন্দির। এলাকায় পুলিশের কড়া পাহারা।