আপনি কতটা স্বার্থপর?
(হাসি) আমি শান্তির জন্য স্বার্থপর। পরিবারের জন্য, ভালোবাসার জন্য আমি ভীষণ স্বার্থপর। বাকি স্বার্থপরতার মানে বুঝি না। কাছের মানুষকে ভালো রাখাটা আমার দায়িত্ব। তাদের ভালো না রাখলে আমি একা ভালো থাকতে পারব না। সেটা যদি কেউ স্বার্থপরতা বলে, তবে তাই। ‘তুমি বলো স্বার্থপর, আমি বলি আত্মসম্মান’— আমাদের সিনেমাতে এই লাইনটা ব্যবহার করা হয়েছে। বহু মানুষ এই লাইনটার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবেন। স্বার্থপরতা অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। আপাতদৃষ্টিতে অন্য মানুষটাকে স্বার্থপর বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তার জায়গায় দাঁড়ালে হয়তো সেটা মনে হবে না।
ছবির গল্প তো বাস্তবে ঘরে ঘরে...
খুবই সময়োপযোগী গল্প। এই ছবিটার একটা সর্বভারতীয় আবেগ আছে। অনেক অপ্রিয় সত্যি আমরা বলি না। দুই ভাইবোনের অনেকদিন হয়তো কথা হচ্ছে না। সেটা নিয়ে আমরা বাইরে আলোচনা করি না। রক্তের সম্পর্ক মানে সব কিছু শেয়ার করেই ছোট থেকে বড় হওয়া। তাহলে কী নিয়ে দাদা এবং বোনের মধ্যে এত মনোমালিন্য?
আপনি নিজের সঙ্গে মিল পেলেন?
আমি একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য। অনেক মানুষের মাঝে বড় হলে প্রতিটি মানুষের ব্যাপারে ভাবার অভ্যেস তৈরি হয়। কাকিমা একরকম। জেঠিমা আবার অন্যরকম। প্রতিটা মানুষ আলাদা, সেটা বুঝতে হবে। সম্মান করতে হবে। সকলে আমার মতো হবে না, এটাই তো সত্যি। নিউক্লিয়ার পরিবারে বাবা, মায়ের বাইরে কারও সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হয় না। আমি মনে করি সন্তানের ভাবনা কোন পথে এগবে, তা তৈরির জন্য মা, বাবার অনেকটা দায়িত্ব থাকে। এখনকার সব বাবা, মা কাজে ব্যস্ত। তার মধ্যেও সন্তানকে ঠিক ভাবে মানুষ করা ভীষণ প্রয়োজন। কারণ ওরা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। সন্তানকে বোঝাতে হবে, অন্য মানুষটির জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিটা ভাবার চেষ্টা করো। কথা বলার পরে ভেবো না। ভেবে কথা বলো। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করলে তো হবে না।
আপনার দুই সন্তান কবীর, কাব্য বড় হচ্ছে, মা হিসেবে ভয় হয়?
না। জীবন সুন্দর। আমরাই সেটাকে জটিল করি। জীবনে গোলাপের সঙ্গে কাঁটাও থাকবে। সেটাই তো শিক্ষা। আমার বাবা, মায়েদের প্রজন্ম একরকম ছিল। আমাদের একরকম। কবীর, কাব্যার প্রজন্মের চিন্তাভাবনা অন্যরকম হতেই পারে। পরিস্থিতি যাই আসুক, তার মধ্যে হাসিমুখে পজিটিভ থাকো, মা হিসেবে সেটাই শেখাই।
কাব্যকে কোন নামে ডাকে কবীর?
পুচকি। আমি ভাবি, কাব্যর যখন ৮০ বছর বয়স হবে, তখনও পুচকি বলে ডাকলে কী হবে!
এই ছবিতে রঞ্জিত মল্লিক রয়েছেন। বাবা শ্যুটিং সেটে থাকলে কি এখনও ভয় লাগে?
(হা হা হা) আগে শ্যুটিংয়ে বাবা খুবই বকতেন। আমি নিশ্চয়ই বকুনির সুযোগ দিতাম, সে কারণেই বকতেন। তখন চাপা গলায় বলতাম, প্লিজ মেকআপে রুমে গিয়ে বকো। শ্যুটিং ফ্লোরে বকুনি দিও না। এই সিনেমার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। বাবা হয়তো বুঝেছেন, মেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে।
পুরনো জুটির ফেরা এখন বাংলা ছবিতে ট্রেন্ডিং। জিৎ বা দেবের সঙ্গে আপনার জুটি কি ফিরবে?
দেখুন, জুটি আমরা তৈরি করি না। তৈরি করেন দর্শক। ভালো গল্প হলে একটা জুটি অবশ্যই ফিরতে পারে। জুটি ফেরাতে হবে বলে একটা ছবি করা বোধহয় ঠিক হবে না।



