সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রবি ঠাকুরের কাদম্বিনী মরে প্রমাণ করেছিল, সে মরেনি। আর পূর্ব বর্ধমানের মেমারির সাতগেছিয়ার সুলেখা ঘোষ সশরীরে সরকারি অফিসে হাজির হয়ে বলছেন— ‘আমি মরিনি বাবু। বেঁচে আছি।’
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রবি ঠাকুরের কাদম্বিনী মরে প্রমাণ করেছিল, সে মরেনি। আর পূর্ব বর্ধমানের মেমারির সাতগেছিয়ার সুলেখা ঘোষ সশরীরে সরকারি অফিসে হাজির হয়ে বলছেন— ‘আমি মরিনি বাবু। বেঁচে আছি।’
সুলেখাদেবী ৭২ বছরের বৃদ্ধা। কখনও তিনি বিডিও অফিস, আবার কখনও পঞ্চায়েত অফিসে পোস্টার হাতে হাজির হচ্ছেন। সরকারি কর্মীরা খাতা কলমে তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে দিয়েছেন। বার্দ্ধক্যভাতা থেকে শুরু করে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ। সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাঁর বিধবাভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন বৃদ্ধা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ। ভাতার টাকায় দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারতেন। মঙ্গলবার ওই বৃদ্ধা ছল ছল চোখে বলছিলেন, ‘অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে। হঠাৎ করে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। বিডিও অফিসে যোগাযোগ করি। ওরা বলছে, সরকারি খাতায় আমাকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। সশরীরে সরকারি অফিসে ঘুরে ঘুরে বলছি আমি মারা যাইনি। তারপরও ওরা ভাতা চালু করেনি। এই বয়সে সরকারী অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
যপূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘উনি আমার কাছে এসেছিলেন। কেন ভাতা বন্ধ রয়েছে, তা জানতে বিডিও অফিসে ফোন করেছিলাম। সেখান থেকে বলা হয়, বিএলও ওই বৃদ্ধার নামের পাশে মৃত লিখে সরকারি অফিসে নথি জমা করেছে। অথচ, তিনি বেঁচে রয়েছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এরকম আরও কয়েকজনের হয়েছে। ভাতার টাকায় অনেকে ওষুধ কেনেন। তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।’ মেমারি-২ ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, ‘ভুলবশত এমনটা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার নথি ঠিক করে দেওয়া হবে। তিনি যাতে ভাতা পান তার ব্যবস্থা করা হবে।’
প্রশসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথ ধরে বিএলওরা সমীক্ষা করছেন। মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার নির্দেশ রয়েছে। অনেকে বাড়িতে না গিয়ে গ্রামে এক জায়গায় বসে সমীক্ষার কাজ করছেন। সেই কারণেই এমনটা হতে পারে। সমস্ত ব্লকেই দ্রুত ভুল সংশোধন করে নেওয়া হবে। যাদের ভাতা বা অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ রয়েছে, সেগুলিও চালু করা হবে। মেমারির সাতগেছিয়ার বাসিন্দারা বলছিলেন, ৭২ বছর বয়স হলেও সুলেখাদেবী এখনও কর্মক্ষম। তিনি একাই সরকারি অফিসে যান। তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করলে অবাক হতেই হয়। সুলেখা ঘোষ। নিজস্ব চিত্র