নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ‘গণ্ডগোল হয়ে গিয়েছে। পুলিস পারবে না, আমি বরং এই কেসের তদন্তভার সিআইডির উপর হস্তান্তর করছি। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে’ আড়ষার যুবক মৃত্যুর মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তবে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তিনি কোনও রায়দান করেননি। কিছুটা সময় নিয়ে সবদিক খতিয়ে তিনি রায় দেবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মোবাইল চুরির অভিযোগে গত ১৬ জুলাই আড়ষার বাসিন্দা বিষ্ণু কুমারকে(৩৪) থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিস। গত ১৯ জুলাই যুবকের মৃত্যু হয়। পুলিসি মারধরের কারণেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মৃতের ভাই সমন কুমার। সেই মামলার শুনানিতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যেভাবে লেখা হয়েছে, তা আদালতকে ‘বিভ্রান্ত’ করছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। এরপরেই কল্যাণী এআইএমএস-এ দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবারের সেই মামলার শুনানিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন বিচারপতি।
মামলাকারীর অন্যতম আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ ছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ ছিল না। এআইএমএস এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ভিসেরা এবং হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট আসেনি। এলে নিশ্চই এরকম আরও একাধিক অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসবে।’ এদিন বিচারপতিকেও বলতে শোনা যায়, ‘একজন সাধারণ মানুষও প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখলে পার্থক্য বুঝতে পারবে।’ বিচারপতি এও বলেন, ‘যদিও আবেদনকারী আদালতের দ্বারস্থ না হতেন, তাহলে তদন্ত যেভাবে চলছিল, সেইভাবেই চলত। আমি এখনই পুলিসের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। কিন্তু পুলিসের আচরণ অত্যন্ত ক্যাজুয়াল ছিল।’ শুধু তাই নয়, পুলিস নিজেদের কর্তব্য পালনেও অবহেলা করেছে বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি। এরপরেই বিচারপতি বলেন, ‘স্থানীয় পুলিস পারবে না। সিআইডির হোমিসাইড শাখাকেই এই ঘটনার তদন্ত করতে দিন।’ মামলাকারীর আইনজীবী এসআইটি গঠন করে তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেন। যদিও তা নাকচ করে দেন বিচারপতি। তবে, এদিনই এই মামলার রায় দেননি বিচারপতি। বরং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, কেস ডায়েরি থেকে শুরু করে মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ এনিয়ে রায় দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালতের রায় প্রসঙ্গে মৃতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, পুলিসের উপর ভরসা নেই। বিচারপতির রায়ে আমরা খুশি। আদালতের উপর সম্পূর্ণ ভরসা আছে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে ঠিকই বলে আসছিলাম, পুলিসের মারেই বিষ্ণুর মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। যারা অভিযুক্ত তাদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ সিপিএমের যুব সংগঠনের সভাপতি বলেন, এবার বিষ্ণুর পরিবার সঠিক বিচার পাবে।