নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: রানিগঞ্জে এবার প্রার্থীবদল করেছে তৃণমূল। রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির জেতা আসন আসানসোল দক্ষিণে। কাজেই রানিগঞ্জের গড় রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কালোবরণ মণ্ডলের উপর। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে বিজেপি। শনিবার রানিগঞ্জে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে বিরোধীদের জবাব দেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান প্রার্থী। সেইসঙ্গে দিলেন ঐক্যের বার্তা।
রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকা শহর ও অণ্ডাল ব্লক নিয়ে গঠিত। অণ্ডাল ব্লকে লোকসভা হোক বা বিধানসভা, বার বার ভালো লিড পেয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এই বিধানসভায় শাসকদলকে চাপে রাখে মূলত রানিগঞ্জ শহর। পুরসভার নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীরা জিতলেও বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে দল এখান থেকে লিড পায় না। নিজেদের মধ্যে কিছু জনপ্রতিনিধির কোন্দল ও ওয়ার্ডের নেতাদের মানুষের সঙ্গে জন সংযোগের অভাব এর বড় কারণ। এনিয়ে বার্তা দিয়ে রানিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডল বলেন, রানিগঞ্জে আমি প্রার্থী নই, তৃণমূলের প্রতিটি সৈনিক প্রার্থী। আমাকে কোনো নেতা হাইজ্যাক করতে পারবে না। মনে রাখবেন সেই নেতার একটি ভোট আপনারও একটি ভোট। আমি সবার প্রার্থী। সবাই এক হয়ে লড়লে রানিগঞ্জ শহর থেকে এবার আমরা লিড নেব। আর অণ্ডাল তো আমার হাতের তালুর মতো চেনা।
তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন বদল নিয়ে রানিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ কটাক্ষ করেন। পার্থবাবু শুক্রবার রানিগঞ্জে এসে দাবি করেন, যে বিধায়ক এলাকায় কাজ করেন না, তিনি জিততে পারবেন না। তাঁরই আসন বদল হয়।
এদিন দেখা যায় আসানসোলে গিয়ে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নিজের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন কালোবরণ মণ্ডল। এতে স্পষ্ট হয়েছে বিদায়ী বিধায়ক ও বর্তমান প্রার্থীর সম্পর্ক। অন্যদিকে, রানিগঞ্জের দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে তাপসবাবুকে নিয়ে তোলা বিরোধী প্রার্থীদের জবার দেন কালোবরণ। তিনি বলেন, তাপসবাবু বিধায়ক হিসাবে রানিগঞ্জ বিধানসভা জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, এখানকার বাসিন্দারাই তার প্রমাণ। এডিডিএর মাধ্যমেও বিপুল কাজ করেছেন তিনি। মনে রাখবেন, আমাদের দল তাঁকে আসানসোল দক্ষিণে পাঠিয়েছে অগ্নিমিত্রাকে রাজনৈতিকভাবে বধ করতে।
এদিন সকালে কালোবরণ মণ্ডল রানিগঞ্জের রোনাইয়ে বরো চেয়ারম্যান শাহাজাদা আনসারিকে সঙ্গে নিয়ে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপরে রানিগঞ্জ বড়বাজারে বড় কালী মন্দিরেও পুজো দেন। দলীয় কার্যালয়ে কর্মী সম্মেলন করে তিনি রানিগঞ্জের রানিসায়ের এলাকায় প্রয়াত জনপ্রিয় নেতা কাঞ্চন তেওয়ারির বাড়ি গিয়ে শ্রদ্ধা জানান ও এলাকায় জনসংযোগ সারেন। সেখানেই রানিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী নারাণ বাউরির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।
তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থ দেওয়াসি বলেন, কালোবরণবাবু যে এলাকা থেকে লিড না পান, সেই এলাকার জনপ্রতিনিধি টিকিট পাবেন কি না প্রশ্ন থাকবে। কর্মিসভায় আসানসোল পুরসভার মেয়র পরিষদ দিব্যেন্দু ভগত ও শহর সভাপতি জ্যোতি সিং লিড দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে, বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ রানিগঞ্জে দাবি করেন, এই আসন থেকে বিজেপি ৪০ হাজার ভোটে জিতবে। জবাবে কালোবরণবাবু বলেন, উনি কলকাতার উকিল। ওঁকে ভোটের পর কেউ পাবেন না।