Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হ্যাক করার কৌশল শিখতে সুরাতে পাড়ি, তারাপীঠে উদ্ধার গোঘাটের ৩ স্কুলছাত্র

হ্যাক করার কৌশল শিখতে সুরাতে পাড়ি, তারাপীঠে উদ্ধার গোঘাটের ৩ স্কুলছাত্র
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মোবাইল ও ল্যাপটপ হ্যাক করার আদব-কায়দা শেখার শখ ছিল। সেই প্রশক্ষিণ নাকি দেওয়া গুজরাতের সুরাতে। বাড়ির কাউকে না জানিয়েই সেখানে যাচ্ছিল গোঘাটের তিন স্কুল পড়ুয়া। কিন্তু তার আগেই তারাপীঠে পাকড়াও। বৃহস্পতিবার রাতে গোঘাট থানার পুলিস অভিযান চালিয়ে ওই তিন পড়ুয়াকে উদ্ধার করে। তাদের জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায় পুলিস। তবে, তাদের সুরাতে যাওয়ার কিংবা সেখানে হ্যাকিংয়ের কাজ শেখার পরামর্শ কে বা কারা দিয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিস অনুসন্ধান শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে তিন ছাত্রকে তারাপীঠ থেকে গোঘাটে নিয়ে আসে পুলিস। 
Advertisement
এদিন আরামবাগে এসডিপিও অফিসে এই ঘটনায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিস। সেখানে ছিলেন হুগলি গ্রামীণের অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃশানু রায়, এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী, গোঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি গৌরাঙ্গ দে, তদন্তকারী অফিসার সুজিত পাল প্রমুখ।  অতিরিক্ত পুলিস সুপার জানিয়েছেন, গোঘাটের ওই তিন ছাত্র নবম শ্রেণিতে পাঠরত। গত বুধবার তারা স্কুল ছুটির পর পালিয়ে যায়। সাধারণ পোশাক পরে গোঘাট থেকে ট্রেনে চেপে শেওড়াফুলি যায়। সেখান থেকে আবার তারা ট্রেনে চেপে তারাপীঠ চলে যায়। সময়মতো তারা বাড়িতে না পৌঁছানোয় চিন্তায় পড়েন অভিভাবকরা। যোগাযোগ করা হয় স্কুলের সঙ্গে। স্কুলের তরফে গোঘাট থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। 
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, তিন পড়ুয়ার মধ্যে কেউই মোবাইল নিয়ে বেরোয়নি। বাড়িতে রেখে যাওয়া মোবাইলগুলি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা সূত্র খুঁজে বের করেন। তাদের সুরাতে যাওয়ার একটি প্ল্যানের নকশা মোবাইলে পাওয়া যায়। পাশাপাশি পড়ুয়াদের ছবি প্রকাশ করে সন্ধান চালায় পুলিস। বিভিন্ন থানাকে তিনজনের সম্পর্কে অবগত করানো হয়। একই সঙ্গ রেল পুলিসকেও বিষয়টি জানানো হয়। 
অতিরিক্ত পুলিস সুপার বলেন, নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় জানা যায় পড়ুয়ারা শেওড়াফুলি স্টেশনে আসে। পুলিস সোশ্যাল মিডিয়ার নানা সূত্র থেকে খবর নিয়ে সন্দেহ করে ছাত্ররা তারাপীঠে গিয়েছে। গোঘাট থানার পুলিসের টিম সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালায়। এক টোটো চালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারাপীঠ মন্দির থেকে কিছু দূরে পড়ুয়াদের উদ্ধার করা হয়। পুলিস জানতে পেরেছে, পড়ুয়াদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তাই তারা হোটেলে উঠতে পারেনি। যদিও তারা সুরাতে যাওয়ার জন্য কোনও ট্রেনের টিকিট কাটেনি। পড়ুয়ারা অবশ্য গোপনে সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্টই সক্রিয় ছিল। 
অতিরিক্ত পুলিস সুপার আরও বলেন, ওই পড়ুয়ারা মোবাইল, ল্যাপটপে হ্যাক করার বিষয়টি রপ্ত করতে সুরাতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেইমতো তারা বেরিয়েছিল। কিন্তু তার আগে আমাদের টিম তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে তারাপিঠ থানার পুলিসও সাহায্য করেছে। তাদের কে বা কারা পরামর্শ দিয়েছিল তা তদন্ত করা হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ