Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথযাত্রার সকাল থেকেই কাঠামো পুজোর ব্যস্ততা শুরু পালপাড়ায়

শাস্ত্রমতে রথযাত্রা বছরের অন্যতম শুভদিন হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। তাই গৃহপ্রবেশ, যাত্রাদলের মহরত, দুর্গোৎসবের খুঁটিপুজো সহ নানা শুভ কাজ রথযাত্রার দিনই হয়ে আসছে।

রথযাত্রার সকাল থেকেই কাঠামো পুজোর ব্যস্ততা শুরু পালপাড়ায়
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

তাপস ঘোষ, বহরমপুর: শাস্ত্রমতে রথযাত্রা বছরের অন্যতম শুভদিন হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। তাই গৃহপ্রবেশ, যাত্রাদলের মহরত, দুর্গোৎসবের খুঁটিপুজো সহ নানা শুভ কাজ রথযাত্রার দিনই হয়ে আসছে। সেইসঙ্গে রথের চাকা গড়ানোর দিনই মৃৎশিল্পীদের পাড়ায় পাড়ায় ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। প্রতিমার কাঠামোয় মাটি ছুঁইয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। সেইসঙ্গে বাঙালির সেরা উৎসবের কাউন্টডাউন। পুজো উদ্যোক্তারা এই দিনে মণ্ডপের খুঁটিপুজো করেন। অনেক ফুটবল ক্লাবের বারপুজোও এই দিনেই হয়।

Advertisement

রথযাত্রার দিনে শুভ কাজ করার বিষয়ে অনেকেই নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পছিপাড়ার বাসিন্দা তথা সংস্কৃত বিষয়ের প্রাক্তন শিক্ষক অমরাক্ষ আচার্য্য বলেন, পৌরাণিককালে রথ যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। রথ পরিচালিত হতো অশ্বের দ্বারা। মানুষও ইন্দ্রের দ্বারা পরিচালিত। রথের চাকা ঘোরা মানেই পুরনোকে পিছনে ফেলে নতুন পথে যাত্রা শুরু করা। সেজন্য জগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিনে যে কোনও শুভ কাজের সূচনা করা হয়। এবিষয়ে সাঠিতড়ার পূর্ণচন্দ্র রায়ের ব্যাখ্যা অন্যরকম। তিনি বলেন, এখন বাংলা ক্যালেন্ডারে বৈশাখ মাস থেকে বছর গণনা শুরু হয়। তবে একসময় রথযাত্রার দিনকে বছরের শুরু বলে ধরা হতো। তারও আগে অগ্রহায়ণ মাস থেকে বছরের শুরু ধরা হতো। সেজন্য অগ্রহায়ণকে মার্গশীর্ষ বলা হয়। যাই হোক, রথের দিনকে বছরের প্রথম ধরে সেদিন কাঠামো পুজোর রীতি শুরু হয়।
বড়ঞা থানার চৌৎপুরের মৃৎশিল্পী জগন পাল বলেন, রথের ৯০দিনের মাথায় বিজয়া দশমী হয়। রথের দিন আমরা ঘটা করে কাঠামো পুজো করি। এই রীতিই আমরা আবহমানকাল ধরে মেনে আসছি।
রথের দিন সকাল থেকেই তাই পালপাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। কাঠামো আগেই বাড়িতে সংগ্রহ করে রাখা হয়। সাধারণত বিগত বছরের প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তুলে আনার পর বাড়িতে রাখা থাকে। রথের আগের দিন সেই কাঠামো ঝাড়পোছ করা হয়। রথের দিন সকালে মৃৎশিল্পীদের পরিবারের সবাই নতুন পোশাক পরেন। পুরোহিত ডেকে কাঠামো পুজো হয়। পুজো শেষে সিঁদুরের সঙ্গে একতাল গঙ্গামাটি প্রতিমার কাঠামোয় লেপে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দিয়েই দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে যায়। বেলডাঙ্গা থানার মহুলার প্রতিমাশিল্পী বাঁকা রায় দাস বলেন, রথের দিন অত্যন্ত শুভ। আমরা বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে এই দিনে প্রতিমার কাঠামোয় মাটি দিয়ে আসছি। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ